যশোর শহরের ব্যস্ততম সড়কের পাশে একটি প্রাচীরের ওপর রাখা হ্যান্ডমাইক থেকে হঠাৎ বাজতে শুরু করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত প্রায় ৯টার দিকে যশোর শহরের চারখাম্বা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হ্যান্ডমাইকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, চারখাম্বা মোড় যশোর শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেলের ভাস্কর্য ছিল। তখন স্থানটি ‘শেখ রাসেল চত্বর’ নামে পরিচিত ছিল। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ওই ভাস্কর্যটি ভেঙে দেয়।
শনিবার রাতে চারখাম্বা মোড় থেকে চৌরাস্তার দিকে যাওয়ার পথে প্রবীণ শিক্ষাবিদ পাভেল চৌধুরীর বাড়ির প্রাচীরের ওপর কে বা কারা একটি সাদা-নীল রঙের হ্যান্ডমাইক রেখে যায়। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ বাজতে শুরু করে।
স্থানীয় চা দোকানদার রমজান বলেন, হঠাৎ দেয়ালের ওপর রাখা মাইক থেকে ভাষণ বাজতে শুরু করলে প্রথমে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে কাছে গিয়ে দেখেন একটি হ্যান্ডমাইক থেকে ভাষণটি বাজছে। মাইকের পাশে বড় দুটি ফুলগাছের ডাল ঝুলে থাকায় কে বা কারা এটি সেখানে রেখে গেছে তা বোঝা যায়নি।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হ্যান্ডমাইকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে। কে বা কারা এটি সেখানে রেখে গেছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে নিয়মিতভাবেই তেল আমদানি হচ্ছে। বর্তমানে একটি জাহাজ থেকে বন্দরে তেল খালাস করা হচ্ছে এবং আগামী সোমবার আরও দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, আগামী এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেল নিয়ে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
তাদের মতে, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের বড় একটি অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। ফলে এই দুই ধরনের জ্বালানি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে তেলের দাম বাড়তে পারে বা সরবরাহ কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে তেল কেনার চাপ বেড়ে যায়। অনেক জায়গায় যানবাহনের দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে। শনিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং দেশের কিছু স্থানে দুপুরের পর সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়।
কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত সংকটের চেয়ে আতঙ্কের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনতে শুরু করেন, আবার কিছু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করায় কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়।
নাটোরের সিংড়ায় বাঁশঝাড়ের নিচে প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত রাখার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসে মোট ১৪টি কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ইতোমধ্যে পৌঁছেছে এবং কয়েকটি পথে রয়েছে। আগামী মাসে ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টির সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। বাকি দুটি কার্গো মে মাসে পাঠানো হবে বলে সরবরাহকারীরা জানিয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নিয়েও বড় ধরনের শঙ্কা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, চীনা জাহাজের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তেল পরিবহনে বড় বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্যও পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বর্তমানে প্রায় ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েল মজুদ আছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা জানান, দেশে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটাই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। মূলত দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে এই পেট্রল তৈরি করা হয়।
এই পেট্রলের সঙ্গে আমদানি করা অকটেন বুস্টার মিশিয়ে অকটেন প্রস্তুত করা হয়। ফলে দেশে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় সবটাই এবং অকটেনের বড় অংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি মিলিয়ে কনডেনসেট থেকে পেট্রল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন।
অন্যদিকে দেশে পেট্রল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক আতঙ্কের কারণে কয়েকদিন ধরে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন।
সূত্র: জ্বালানি বিভাগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও গণমাধ্যম প্রতিবেদন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এ মামলার আবেদন করেন রমনা থানা বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম।
মামলার আবেদনে বলা হয়, মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে মন্তব্য করেছেন তা মানহানিকর এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল। এ বিষয়ে আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
মির্জা আব্বাসের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম জানান, তাদের পক্ষ থেকে মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে এ আবেদনের ওপর আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ওই নির্বাচনে পাঁচ হাজারের বেশি ভোটে জয় লাভ করেন মির্জা আব্বাস।
তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভোট গণনায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান চায়ের দোকানে ঢুকে পড়লে রফিকুল আলম (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রফিকুল আলম ওই এলাকারই বাসিন্দা। দুর্ঘটনার সময় তিনি স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে মহাসড়কসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন।
নিহতের ভাগনে মাইনউদ্দিন হাসান জানান, হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে সোজা দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে রফিকুল আলম গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় রুহুল আমিন (৪৫) নামে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রফিকুল আলমের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তার মৃত্যু হয়।
স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনায় রফিকুল আলমের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পিকআপ ভ্যানটি আটক করেন। তবে পরে চালককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পিকআপ ভ্যানটি জিদ্দাবাজার এলাকায় রয়েছে।
চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আমিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পিকআপ ভ্যানটি পুলিশের জিম্মায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আজ রোববার (৮ মার্চ) ১৮ মার্চের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের সুবিধা এবং সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে শতভাগ অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া অঞ্চলভেদে দুই ধাপে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর ১৮ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর একই দিনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের বাড়ি ফেরা সহজ করতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে রেলওয়ে। এর আগে গত ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ মার্চ যথাক্রমে ১৩, ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ মার্চের ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।
এছাড়া ৯ মার্চ বিক্রি করা হবে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট।
ঈদের পর ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ১৩ মার্চ থেকে। ওইদিন ২৩ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে। এরপর ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চ যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। শনিবার (৬ মার্চ) গভীর রাতে ইসরাইলের তেল আবিবকে লক্ষ্য করে একাধিকবার মিসাইল ছোড়ে তেহরান।
রোববার সকালে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানায়, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও দেশটি প্রায় সারারাতই ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহলও।
আগামীকাল ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ বছরের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য— ‘Rights. Justice. Action. For ALL women and girls’। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য এই প্রতিপাদ্য কেবল একটি স্লোগান নয়; বরং টিকে থাকা ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান পথনির্দেশনা।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নারীদের অর্থনৈতিক ও নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও নারী অধিকারকে কেবল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তবে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো পুরুষদের তুলনায় কম। বর্তমানে দেশের শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৪২.৭ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ প্রায় ৮১ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, নারীর অংশগ্রহণ যদি পুরুষদের সমান পর্যায়ে পৌঁছায়, তাহলে দেশের জিডিপি প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী এটি প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যোগ করতে পারে।
তবে কেবল অংশগ্রহণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)–এর তথ্য অনুযায়ী, কর্মজীবী নারীদের প্রায় ৯৭ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। এসব খাতে চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা বা ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা থাকে না।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাত্র ৭.২ শতাংশের মালিক নারী। এই বৈষম্য কমাতে নারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, জামানতবিহীন অর্থায়ন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি।
রাজনীতি ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন নারী নেতৃত্ব ছিল, তবুও তৃণমূল পর্যায় এবং উচ্চতর প্রশাসনিক কাঠামোতে নারীর উপস্থিতি এখনো সীমিত। একটি সমতা ভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে হলে নারীদের নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এছাড়া নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অন্যতম শর্ত। বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা এখনো একটি বড় সমস্যা। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি বিবাহিত নারীদের প্রায় অর্ধেক কোনো না কোনো সময়ে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পারিবারিক সুরক্ষা আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।
বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইসিটি ও স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো সময়ের দাবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে নারীদের ডিজিটাল দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় নারীরা আর কেবল সুবিধাভোগী নন; তারা এখন পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। ঘরের কাজ থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও অভিযানে নারীরা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করছেন।
এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সম্পত্তিতে সমানাধিকার নিশ্চিত করাই হতে পারে এবারের নারী দিবসের মূল অঙ্গীকার।
লেখক: মিনারা নাজমীন, নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতা বিশেষজ্ঞ।
সূত্র: লেখক মিনারা নাজমীন, বিভিন্ন গবেষণা ও গণমাধ্যম প্রতিবেদন।
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কিং’ নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। চলতি বছরের শেষের দিকে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই ছবির একটি বিশেষ অ্যাকশন দৃশ্য সম্প্রতি ধারণ করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামা–র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিজয়া দশমীর উৎসবকে কেন্দ্র করে ছবিটির একটি বড় অ্যাকশন দৃশ্য টানা আট রাত ধরে শুটিং করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দৃশ্যটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে ঐতিহ্যবাহী বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রার আবহ পুরোপুরি ফুটে ওঠে। ঢাকঢোল, রঙের উচ্ছ্বাস এবং বিসর্জনের দিনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে সেটে ধারণ করা হয়েছে এই অ্যাকশন দৃশ্য।
এই দৃশ্যে শাহরুখ খানের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন তার মেয়ে সুহানা খান। জানা গেছে, সুহানা নিজেই বেশ কয়েকটি স্টান্ট দৃশ্যে অভিনয় করেছেন, যা তার চরিত্রের জন্য ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। ভিড়ের মধ্যেই বাবা-মেয়েকে নিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং সম্পন্ন করা হয়েছে।
শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন শত শত জুনিয়র শিল্পী। বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবের আবহ তৈরি করে দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিনেমাসংশ্লিষ্ট সূত্র।
এই ছবির মাধ্যমে আবারও দর্শকদের চমকে দিতে চান শাহরুখ খান। ‘কিং’ ছবিতে তার পাশাপাশি অভিনয় করছেন রানি মুখার্জি, দীপিকা পাড়ুকোন, অভিষেক বচ্চন ও আরশাদ ওয়ার্সির মতো জনপ্রিয় তারকারা।
অন্যদিকে ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য আর্চিজ’–এ অভিনয়ের পর এই সিনেমার মাধ্যমেই বাবার হাত ধরে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে সুহানা খানের।
ছবিটি পরিচালনা করছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ। তিনি এর আগে ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া শাহরুখ খানের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘পাঠান’ পরিচালনা করেছিলেন। পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, ‘কিং’ ২০২৬ সালের বড়দিন উপলক্ষ্যে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের পর এটিই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সর্বোচ্চ মূল্য।
এদিকে কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী এবং কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। পরিবহণ ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি হিটিং, খাদ্যপণ্য এবং আমদানিকৃত পণ্যের দামও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তাদের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রের কাছাকাছি সামরিক হামলার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেন, যদি যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চীন, ভারত ও জাপানের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো তীব্র জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে পড়েছে।
রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ‘বাস্তব ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকে, তবে বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের বাজার তদারকি সংস্থা সিএমএ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটিতে ইতোমধ্যে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে কয়েক সপ্তাহের তেল মজুত থাকলেও সেই মজুত শেষ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনাও করতে পারে।
জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস–এর প্রতিষ্ঠাতা অম্রিতা সেন বলেন, শুরুতে অনেক ব্যবসায়ী ধারণা করেছিলেন সংঘাত দ্রুত শেষ হবে। তাই সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম বৃদ্ধির গতি তুলনামূলক কম ছিল। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার স্থায়ীভাবে তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারে।
সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক শিক্ষক ও কর্মচারী বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (৭ মার্চ) শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের মিডিয়া সেল থেকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
মিডিয়া সেলের পোস্টে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীকে বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা প্রশাসনে নানা ধরনের জটিলতা ও অনিয়ম তৈরি হয়েছে।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক চাপ আর রাখা হবে না। বিভিন্ন সমস্যা ও প্রশাসনিক বিষয় দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ এবং সেবা প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।