জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম ও হেডফোন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতের দলীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বড় আকারের হেডফোন ব্যবহার করতে গিয়ে সংসদ সদস্যদের কষ্ট হচ্ছে এবং এ ব্যবস্থার পেছনে অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার সময় হেডফোন দেখিয়ে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, এখন এটি এত বড় বোঝা মনে হয়। মাথার ওপর দিয়ে দীর্ঘ সময় এটি ব্যবহার করে বসে থাকা সবার জন্যই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, একটি বাজেট করা হয়েছিল এবং সেই বাজেট থেকে কিছু লোক বিল করে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
তিনি আরও বলেন, এর আগে ১৯৯১ সালের সংসদে এবং পরে ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের সময়ও সংসদে কাজ হয়েছে, তখন এত বড় হেডফোন ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়নি। সংসদের সাউন্ড সিস্টেম উন্নত করা গেলে ছোট ও সাধারণ হেডফোন ব্যবহার করেই সংসদ সদস্যরা পরিষ্কারভাবে বক্তব্য শুনতে পারবেন।
এই সংসদ সদস্য বলেন, সংসদ কক্ষে সাউন্ড সিস্টেমটি আরও উন্নত করা প্রয়োজন। বড় ও ভারী হেডফোনের পরিবর্তে সহজ ব্যবহারযোগ্য হেডফোন দিলে সংসদ সদস্যদের জন্য তা সুবিধাজনক হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন বিরতির পর নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে সাউন্ড সিস্টেমে বিভ্রাট দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার কিছু সময় হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে অধিবেশন পরিচালনা করেন। পরে তিনি প্রায় ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন।
বিরতি শেষে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলেও সংসদ কক্ষের সব মাইক্রোফোন স্বাভাবিক হয়নি। এ সময় একাধিক সংসদ সদস্য বিষয়টি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবারই জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেডফোনের মান নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি লিখেছেন, এই হেডফোনের মান এতটাই খারাপ যে ব্যবহার করতে গিয়ে কান থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যথা অনুভূত হয়েছে। সাউন্ডের মানও অত্যন্ত নিম্নমানের বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে ধর্মীয় শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রায় ৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এসব জটিলতা দ্রুত সমাধান করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই নিয়োগে কারিআনা পাশধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় ভর্তির পদ্ধতি নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল, তবে সেটি তার কাছে খুব যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোকে সরকারের নীতিমালার আওতায় এনে দেশের নিয়মকানুন অনুসারে যুগোপযোগী করার বিষয়েও কাজ চলছে। পাশাপাশি ইবতেদায়ী ও কওমী শিক্ষাসহ দেশের সব ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে মোট পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এর মধ্যে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম পর্যায় জুলাই ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান রয়েছে।
এছাড়া ঢাকা মহানগর ও পূর্বাচলে নান্দনিকতা বৃদ্ধিসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫০টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত চলবে।
মন্ত্রী জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে দেশের ৫৮টি জেলায় কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ শীর্ষক কোর্স বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের বিকল্প শিক্ষার সুযোগ দিতে দেশের ৬৪টি জেলার প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় বিকল্প শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এই প্রকল্পটি ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন পেয়েছে এবং জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
রমজানের আকাশ যখন শেষ দশকের গভীর নীরবতায় ঢেকে যায়, তখন মুসলিম হৃদয়ে জেগে ওঠে এক বিশেষ প্রত্যাশা—এক মহিমান্বিত রাতের প্রতীক্ষা। সেই রাত লাইলাতুল কদর, মর্যাদার রাত, নিয়তির রাত; এমন এক আধ্যাত্মিক মুহূর্ত যার মূল্য সাধারণ সময়ের হিসাব দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।
মানব ইতিহাসে খুব কম রাতই আছে, যাকে আল্লাহ নিজেই এত উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। পবিত্র কুরআনে এই রাতের মহিমা ঘোষণা করে বলা হয়েছে—
“নিশ্চয়ই আমি এটি (কুরআন) নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরের রাতে। আর তুমি কি জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সূরা আল-কদর ১–৩)
এই আয়াতগুলো শুধু একটি রাতের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা নয়, বরং মানবতার জন্য এক অসীম সুযোগের দ্বার উন্মোচন। হাজার মাস—অর্থাৎ প্রায় তিরাশি বছরের ইবাদতের সমান সওয়াব অর্জনের সম্ভাবনা একটি মাত্র রাতেই নিহিত রয়েছে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের প্রতি এক বিশেষ অনুগ্রহ। সীমিত মানবজীবনকে অসীম আধ্যাত্মিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করার এক অনন্য সুযোগ হলো লাইলাতুল কদর।
এই রাতের ঐতিহাসিক তাৎপর্যও গভীর। এই রাতেই অবতীর্ণ হয়েছিল মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ দিকনির্দেশনা—পবিত্র কুরআনের প্রথম বাণী। সেই মুহূর্তে যেন আসমান ও জমিনের মাঝখানে জ্ঞানের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছিল।
অন্ধকারে আচ্ছন্ন আরবের মরুভূমি থেকে যে আলোর ধারা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে মানবসভ্যতার ইতিহাসে ন্যায়, জ্ঞান ও নৈতিকতার এক মহান পরিবর্তন এনে দেয়।
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে এই রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে বারবার সচেতন করেছেন। তিনি বলেছেন—
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদতে দাঁড়ায়, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
এই হাদিসের মধ্যে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক বার্তা। মানুষের জীবন ভুলে ভরা, সীমাবদ্ধতায় পূর্ণ। কিন্তু লাইলাতুল কদরের রাত তাকে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়। এই রাতে ক্ষমার দরজা খুলে যায়, অতীতের গুনাহ মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কুরআনে এই রাতের আরেকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে—
“এই রাতে ফেরেশতারা এবং রূহ (জিবরাইল) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিতে সব কল্যাণকর বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হন। শান্তি বর্ষিত হতে থাকে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।” (সূরা আল-কদর ৪–৫)
এই আয়াত যেন এক অপার্থিব দৃশ্যের চিত্র তুলে ধরে—এক রাত, যখন আকাশের রহমত পৃথিবীর বুকে নেমে আসে। ফেরেশতাদের আগমনে ভরে ওঠে আকাশের স্তর, আর মানুষের প্রার্থনা পৌঁছে যায় মহান আল্লাহর দরবারে।
ইসলামী ঐতিহ্যে লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখ গোপন রাখা হয়েছে। নবীজি নির্দেশ দিয়েছেন রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে এই রাতের সন্ধান করতে। এর মধ্যে রয়েছে একটি গভীর শিক্ষা—মুমিন যেন শুধু একটি রাতের জন্য অপেক্ষা না করে, বরং পুরো শেষ দশকজুড়ে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে।
এই রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো দোয়া। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—যদি আমি লাইলাতুল কদর পাই, তাহলে কী দোয়া করব? উত্তরে তিনি শিখিয়েছিলেন—
এই সংক্ষিপ্ত দোয়া যেন মানুষের অন্তরের গভীর আকুতির ভাষা—ক্ষমার আবেদন, করুণার প্রত্যাশা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিনম্র প্রার্থনা।
আজকের দ্রুতগতির আধুনিক পৃথিবীতে মানুষ প্রায়ই তার আধ্যাত্মিক শিকড় থেকে দূরে সরে যায়। প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তি ও ভোগবাদী সংস্কৃতির ভিড়ে মানুষ অনেক সময় ভুলে যায় তার অস্তিত্বের গভীর উদ্দেশ্য।
লাইলাতুল কদর সেই বিস্মৃত সত্যকে আবার স্মরণ করিয়ে দেয়—মানুষ কেবল দুনিয়ার অর্জনের জন্য সৃষ্টি হয়নি; সে সৃষ্টি হয়েছে আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য।
রমজানের শেষ দশকে যখন মসজিদগুলো রাতভর ইবাদতে মুখর হয়ে ওঠে, কুরআনের তেলাওয়াত রাতের নীরবতাকে আলোকিত করে, তখন মনে হয় পৃথিবী যেন কিছুক্ষণের জন্য তার আধ্যাত্মিক ভারসাম্য ফিরে পেয়েছে।
সেই সময় একজন মুমিন নিজের অন্তরের দিকে ফিরে তাকায়, অতীতের ভুলের জন্য তওবা করে এবং নতুন জীবনের জন্য আল্লাহর কাছে শক্তি প্রার্থনা করে।
লাইলাতুল কদর তাই কেবল একটি পবিত্র রাত নয়; এটি মানুষের আত্মার জন্য এক নবজাগরণের মুহূর্ত। এটি এমন এক সময়, যখন সীমিত মানবজীবন অসীম রহমতের সান্নিধ্যে পৌঁছানোর সুযোগ পায়।
এই কারণেই প্রতি রমজানে মুসলিম হৃদয়ে আবার জেগে ওঠে এক গভীর প্রত্যাশা—হয়তো এই রাতেই খুলে যাবে ক্ষমার দরজা, হয়তো এই রাতেই আল্লাহর রহমতের আলো ছুঁয়ে যাবে মানুষের অন্তরকে।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা।
শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এই দাম শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং রোববারও একই দামে স্বর্ণ বিক্রি করা হচ্ছে।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৭ টাকা।
একই সঙ্গে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা খাঁটি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। তখন ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা।
ক্রমাগত দামের এই পরিবর্তনে স্বর্ণের বাজারে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতি।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় বাউধরণ বাজারে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউপি সদস্য ও বিশিষ্ট মুরুব্বী আশিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার নায়েবে আমির মাওলানা দরচ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোঃ শাহ আলম। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জগন্নাথপুর উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ও চিলাউড়া ইউনিয়নের সেক্রেটারি রিয়াজ উদ্দিন রাজু, যোবায়ের আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাস। এই মাসের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তারা সকলকে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রেখে সমাজ উন্নয়নে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আওতায় দেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও সম্মানী প্রদান করা হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতাদেরও এই সম্মানী কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাবিউল্লাহ জানিয়েছেন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা করে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
পাকিস্তানি জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান সম্প্রতি তার নতুন একটি প্রজেক্ট নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি তার বর্তমান কাজটিকে জীবনে একবার পাওয়া যায় এমন একটি বিশেষ চরিত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা পোস্টে শুটিং সেটের বেশ কিছু আবেগঘন ও ঘরোয়া মুহূর্ত তুলে ধরেছেন তিনি। একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি স্ক্রিপ্টের ওপর একটি গোলাপ রাখা রয়েছে। যদিও প্রজেক্টটির নাম তিনি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেননি, তবে স্ক্রিপ্টের পাতায় ‘বিলকিস’ এবং ‘নাজির’ নাম দুটি দেখা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন এই নাটক বা সিনেমায় ‘বিলকিস’ চরিত্রে অভিনয় করছেন মাহিরা খান।
পোস্টে শুটিং সেটের বাইরেও তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু মুহূর্ত উঠে এসেছে। ঘাসের ওপর শুয়ে থাকা, একা বসে ডায়েরি লেখা কিংবা বাড়ি থেকে পাঠানো দেশি খাবারের প্রতি তার ভালোবাসার কথাও ছবির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তিনি।
ছবিগুলোতে ভক্তদের পাঠানো ফুল এবং তার নিজস্ব পোশাক ব্র্যান্ডের পোশাকে মাহিরাকে বেশ স্নিগ্ধ দেখাচ্ছিল। এছাড়া নিজের বয়সের ছাপ নিয়েও বেশ স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন তিনি। একটি ক্লোজআপ ছবিতে নিজের মুখের বলিরেখা নিয়ে মাহিরা লেখেন, এই রেখাগুলো বহু বছরের জীবনের সাক্ষী এবং এর জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি নিজেকে বেশি করে পানি পান করার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন এবং পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন— “অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?”
এদিকে এই রহস্যময় প্রজেক্টের পাশাপাশি খুব শিগগিরই বড় পর্দায়ও দেখা যাবে মাহিরা খানকে। আসন্ন ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘আগ লাগে বস্তি মে’। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফাহাদ মুস্তফা।
কমেডি ও টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন জাভেদ শেখ ও কমেডিয়ান তাবিশ হাশমি। নির্মাতাদের আশা, ছবিটি দর্শকদের জন্য দারুণ বিনোদনের উপলক্ষ হয়ে উঠবে।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের গোলাপ বাগানে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল একটি করে আম গাছের চারা রোপণ করেন।
বৃক্ষরোপণ শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাদের কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্পিকার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় তার বাংলো পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। পরে গোলাপ বাগানে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় নেতাদের স্মরণে দোয়া আয়োজন করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নির্বাচনোত্তর সময়ে দেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা বাড়ছে।
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবস্থার নাম গণতন্ত্র। শক্তিশালী বিরোধী দল, শিক্ষার প্রসার, আর জনগণের আর্থিক বৈষম্য কমিয়ে এনে এই ধারাকে করা যায় সবচেয়ে জনমুখি শাসনব্যবস্থা।
বিজিত দলের দায়িত্ব ও কর্তব্য বেড়ে যায় নির্বাচন পরবর্তী সময়ের রাজনীতির সাথে গণপ্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণ করা।
নির্বাচনোত্তর রাজনীতিতে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা হলো সুস্থ্য ধারার গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করা। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও জুলাই বিপ্লবের আকাংখা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার সাধন করা।
কিন্তু ইতিহাস থেকে আমরা দেখি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিহাস চরমভাবে প্রতিহিংসা পরায়ণ। বলা হয়ে থাকে এই প্রতিহিংসা পরাণয়তার কারণেই উদ্ভব হয়েছে ঐতিহ্যগত টক্সিক রাজনীতির।
এটা এমন এক প্রবণতা যা দশকের পর দশক শুধু বেড়েছে। ফলে ক্ষমতাসীন শাসক দল আর বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বেড়েছে দুরত্ব আর অবিশ^াস। যখন যে দল ক্ষমতায় গেছে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে দেদারসে পরাজিত দলের উপর জুলুম নির্যাতন করেছে।
এই প্রতিশোধ প্রবণতা এতটাই স্থায়ী হয় যে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী কোনটিই এই মানসিকতা থেকে রেহাই পায় না। আধুনিক গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতির জন্য এটি এক চরম অশনি সংকেত। এতে করে সুস্থ্য ধারার রাজনীতি চর্চার পথই শুধু রুদ্ধ হয় না গণতন্ত্র বিকাশের পথ হয়ে ওঠে কণ্টকাকীর্ণ।
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিরোধিতা, নানান মত ও পথ থাকবে। এটা নিয়ে এগিয়ে চলে গণতন্ত্রের মশাল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা ও উন্নয়নে বিগত দিনগুলোতে তার বিন্দুমাত্র আমরা প্রত্যক্ষ করিনি।
প্রতিপক্ষকে হয়রানি, দমন পীড়ন করাই হয়ে উঠেছিল আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত ১২ তারিখের নির্বাচনের পর দেশে সুস্থ্য ধারার রাজনীতি র্চচা হবে বলে আমরা বিশ^াস করি। ক্ষমতাসীন দল, কোন বিশেষ দল, মত গোষ্ঠীর হয়ে কাজ না করে সবার হয়ে কাজ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
কোন ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দল যখন কোন গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করেন পক্ষপাতিত্ব করেন তখন সেই দল হয়ে পড়ে জনবিচ্ছিন্ন। একচোখা আর পক্ষপাতিত্বমূলক দৃষ্টিভঙ্গি শুধু নেতাই নয় ভবিষতে দেশের জন্যও নেতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে। ক্রমবর্ধমান ভাবেই জন বিচ্ছিন্নতা দলকে করে তোলে রাজনৈতিকভাবে দুর্বিনীত।
দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে সমস্যার শেষ নেই। রাজনীতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, মনস্তাত্বিক, আর্ন্তজাতিক প্রপঞ্চের বিচারে দেশ সমস্যাসঙ্কুল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
অর্থনীতিতে স্বস্তি নেই, ব্যাংকিং খাতে কোন সংস্কার নেই, রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়ছে, সর্বত্র আইনের শাসনের অনুপস্থিতি দৃশ্যমান, চাঁদাবাজির ঐতিহ্য, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, আমদানি রপ্তানি ভারসাম্য না থাকা, বৈদেশিক ঋণের চাপ, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে মন্থরগতি,সাংবিধানিক সংস্কারে সরকারে উদ্দেশ্য প্রণোদিত কালক্ষেপণ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে রাষ্ট্রের সদিচ্ছার অভাব,
আইনশৃংখলার অবনতি, নবায়নযোগ্য জ¦ালানীর সম্প্রসারণকে নিরুৎসাহিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব, জনঅধিকারকে প্রাধাণ্য দেওয়ার মত সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকতার পরিচয় দেবে এটাই প্রত্যাশা জনমনে।
শুধু এ গুলোই নয় আর্ন্তজাতিক শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনার মত মৌলিক সমস্যা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনোত্তর নতুন সরকারের জন্য মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বড় একটা চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক বছর ধরে দেশের চলমান মুদ্রস্ফীতি ৮-৯ শতাংশের উপরে এই প্রবণতাকে ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনাটা সরকারের অন্যতম একটি মৌলিক কাজ।
শুধু মুদ্্রাস্ফীতই নয় জিডিপির হ্রাসবৃদ্ধিও হতাশাজনক। শুধু সেটাই নয় গত ১১ বছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে কমতির দিকে এবং চলতি বছর সেটা ২২.০৩ শতাংশ যা অর্থনীতির জন্য কোন সুখকর সংবাদ নয়। নিজেদের স্বক্ষমতা যাচাই করে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কাজটা সঠিক সময়ে করতে পারাটা সরকারের জন্য হবে বড় সফলতা।
এছাড়া দক্ষিন এশিয়ার জিও পলিটিক্স, রাজনৈতিক বোঝাপড়ার উন্নতি সাধন করাটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে বলে আমরা মনে করি। ক্ষমতাসীন দলের নিকট আমাদের প্রত্যাশা সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সমস্যা বাছাই করে সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে রাষ্ট্রকে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র শান্তি ও কল্যাণমূলক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাক।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলমত শ্রেণি নির্বিশেষে এখন এমনটাই প্রত্যাশা সবার। রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নে বিরোধী দল, গোষ্ঠী, মত, গণমাধ্যমের জন্য এটুকু করতে না পারলে সেটা শুধু দেশের জন্যই ক্ষতিকর ক্ষতির কারণ নয় গণতন্ত্রের সুস্থ্য ধারা চালু করার ক্ষেত্রেও একটা বড় প্রতিবন্ধকতা।
গণতন্ত্রের উত্তরণে দেশের সার্বিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের সকল দল ও মতের জনগোষ্ঠীকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ হয়ে উঠুক উন্নয়নের সমার্থক। একবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে এমনটাই হোক আমাদের সার্বজনীন প্রত্যাশা।
ইসলামে জাকাত ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পদের ধরন ও মালিকানার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যৌথ ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক সময় জাকাতের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবসার ক্ষেত্রে নগদ টাকা, বাকি-পাওনা অর্থ এবং ব্যবসায়িক পণ্য—সবকিছুই জাকাতযোগ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। তাই জাকাত নির্ধারণের সময় এসব সম্পদ একত্রে হিসাব করতে হয়।
তবে যৌথ ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জাকাত প্রত্যেক অংশীদারের ব্যক্তিগত মালিকানার ভিত্তিতে ফরজ হয়। অর্থাৎ ব্যবসার মোট সম্পদের উপর সম্মিলিতভাবে জাকাত ফরজ হয় না; বরং প্রত্যেক অংশীদার তার নিজ নিজ অংশ অনুযায়ী জাকাত প্রদান করবেন।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যবসায় পাঁচ লাখ টাকা নগদ থাকে এবং আট লাখ টাকা বাকি-পাওনা থাকে, তাহলে এই অর্থ এবং ব্যবসায় থাকা পণ্যসমূহ একত্রে হিসাব করে মোট সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
এরপর ব্যবসার অংশীদারদের মধ্যে যদি মালিকানা সমান হয়, তাহলে মোট সম্পদ তিন ভাগে ভাগ করে প্রত্যেকের অংশ অনুযায়ী জাকাত নির্ধারণ করতে হবে। যদি প্রত্যেকের অংশ নেসাব পরিমাণ সম্পদের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে তাদের প্রত্যেকের উপর জাকাত আদায় করা ফরজ হবে।
তবে বাকি-পাওনা টাকার ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি কোনো অর্থ এমন হয় যা পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই, তাহলে সেই অংশের উপর জাকাত দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু যদি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সেই টাকাও জাকাতের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ধর্মীয় আলেমরা বলেন, সঠিকভাবে জাকাত হিসাব করে আদায় করলে সম্পদের পবিত্রতা বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে দরিদ্র মানুষের অধিকারও নিশ্চিত হয়।
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১৫৬২; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, বর্ণনা ৭১০৫; আলজাওহারাতুন্নায়্যিরাহ।