বলিউডে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে কেডি: দ্য ডেভিল সিনেমার একটি গান। ‘সারকে চুনার তেরি সারকে’ শিরোনামের এই গানটিকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
গানটিতে অভিনয় করেছেন নোরা ফাতেহি এবং সঞ্জয় দত্ত। গানের কথা ও দৃশ্যায়নকে ‘অশ্লীল’ এবং ‘দ্ব্যর্থবোধক’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
গত ১৫ মার্চ গানটি মুক্তির পরপরই একাধিক ব্যবহারকারী এর বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানান। অনেকেই গানের কথাকে কুরুচিপূর্ণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি নৃত্য ও উপস্থাপনাকে উস্কানিমূলক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এ বিতর্কে যোগ দিয়েছেন সংগীতশিল্পী আরমান মালিক। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে এটিকে বাণিজ্যিক গানের মানের অবনতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিতর্ক এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে, নির্মাতারা ইউটিউব থেকে গানটির হিন্দি ও কন্নড় সংস্করণ সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
এদিকে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন ইতোমধ্যে গানটির বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে। পাশাপাশি আইনজীবীরা গানটি নিষিদ্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন।
দিল্লির সাইবার সেলে গানের নির্মাতা, গীতিকার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগে বিভিন্ন আইনের ধারা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পরিচালক প্রেম নির্মিত এই সিনেমাটি ১৯৭০-এর দশকের বেঙ্গালুরুর আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে তৈরি একটি অ্যাকশনধর্মী কাহিনী। এতে আরও অভিনয় করেছেন ধ্রুব সারজা, শিল্পা শেঠি ও যিশু সেনগুপ্ত।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন এক প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে প্রথম এক মাসকে পর্যবেক্ষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনাপর্ব হিসেবে দেখছেন, যেখানে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক স্থিতি বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে।
প্রথমত, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ জনমনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুপের সিদ্ধান্ত কৃষকদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির সূচনা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক সংহতি জোরদারে ইমাম ও পুরোহিত ভাতা চালুর উদ্যোগ একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ধর্মীয় নেতাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য। বাজার তদারকি জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থায় নজরদারি এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। যদিও এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, তবুও বাজারে অস্থিরতা কমাতে সরকারের সক্রিয়তা ইতিবাচক হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।
চতুর্থত, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার মধ্যেও সরকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে। এতে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা অর্থনীতি ও পরিবহন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশাসনিক দিক থেকেও শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় বাড়ানো, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি আনা এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও এসব উদ্যোগের পূর্ণ ফল পেতে সময় লাগবে, তবে সূচনা পর্যায়কে আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সময়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিবেশী ভারত-এর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ। বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হয়।
সব মিলিয়ে, প্রথম এক মাসকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতি বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘ পথের কেবল শুরু—আগামী দিনে এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতাই নির্ধারণ করবে সামগ্রিক সাফল্য।
ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হতেই রাজধানী ঢাকা ছেড়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে স্বস্তির খবর হলো, দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-এর কুমিল্লা অংশে এখনো পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টার পর থেকে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও পরিবহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামমুখী লেনে যানবাহনের সংখ্যা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
এবারের ঈদযাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চালক ও যাত্রীরা। তাদের মতে, বিগত বছরগুলোতে এই মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হলেও এবার সেই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের যানজট বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, ঈদযাত্রাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে।
চালক ও যাত্রীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক পরিবহন চালক জানান, স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলাচল করায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। যাত্রীরাও বলছেন, এবারের যাত্রা অনেকটাই আরামদায়ক।
কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার শাহীনুর আলম বলেন, যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, মহাসড়কের উন্নয়নকাজ সাময়িক বন্ধ রেখে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রায় স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট, যা ঘরমুখো মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।
ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, কোনো বাস কাউন্টার বাড়তি ভাড়া নিলে যাত্রীরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, প্রমাণ মিললেই ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
আইজিপি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। মহাসড়কে যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় তিনি টার্মিনালে উপস্থিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের যাত্রা যেন স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হয়, সে বিষয়ে পুলিশের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে যাত্রীদের সচেতন থাকতে হবে এবং কোনো অনিয়ম দেখলে দ্রুত জানাতে হবে, যাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সৌদি আরব থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও গ্যাসোলিন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন আমদানি করা হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই জ্বালানি আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।
জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী জাহাজের মাধ্যমে সরাসরি সৌদি আরব থেকে এসব জ্বালানি দেশে আনা হবে। দ্রুত আমদানি সম্পন্ন করে জাতীয় জ্বালানি মজুদ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা এবং দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করাই এই আমদানির মূল উদ্দেশ্য।
দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। নিজের সেরা ফর্মে থাকা এই টাইগার ওপেনার আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।
তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৩ ওভার শেষে দুই উইকেট হারিয়ে দলের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৭৭ রান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুতই বিনা উইকেটে দলীয় একশ রানের ঘর পার করে স্বাগতিকরা।
তবে দলীয় শতরান পার হওয়ার পর সাইফ হাসান আউট হয়ে ফিরে যান। পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির এক ওভারে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান।
অন্যপ্রান্তে সাবলীলভাবে ব্যাট করতে থাকেন তানজিদ তামিম। তাকে সঙ্গ দিতে থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও কিছুক্ষণ ভালো ব্যাটিং করলেও শেষ পর্যন্ত বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পাকিস্তানি পেসার হারিস রউফর বলে ২৭ রান করে আউট হন তিনি।
এরপর উইকেটে আসেন লিটন দাস। তাকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন তানজিদ তামিম।
অবশেষে ৩৩তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়েই শতকের দেখা পান এই ওপেনার। সেঞ্চুরি করতে তিনি খেলেন ৯৮ বল। তার ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা ও ৬টি চার।
আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৮৪ রান।
তার এই ঝলমলে ইনিংসে উচ্ছ্বসিত ক্রিকেটপ্রেমীরা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তার ব্যাটেই বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ দল।
আলোচিত সামাজিক মাধ্যম তারকা হিরো আলম আবারও নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। এবার তিনি নিজের কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ধারাবাহিক নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন।
জানা গেছে, কারাগারে কাটানো ২১ দিনের নানা অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করেই এই ধারাবাহিকের গল্প সাজাতে চান তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হিরো আলম জানান, জেলে কাটানো সেই সময়টি তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। কারাগারের ভেতরের বাস্তবতা, বন্দিদের দৈনন্দিন জীবন এবং কঠোর নিয়মকানুন তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতাগুলোই দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চান তিনি।
তার মতে, বাইরে থেকে সাধারণ মানুষ কারাগারের ভেতরের জীবন সম্পর্কে খুব কমই জানেন। কিন্তু ভেতরে গেলে বোঝা যায়, প্রতিটি মুহূর্ত কতটা ভিন্ন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে কাটে। বন্দিদের দিন-রাতের রুটিন, তাদের সংগ্রাম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাতের পরিবেশ—এসব বিষয় ধারাবাহিকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
হিরো আলম আরও বলেন, শুধু নিজের অভিজ্ঞতাই নয়, জেলের ভেতরে দেখা বিভিন্ন চরিত্র ও ঘটনার প্রতিফলনও এতে থাকবে। বাস্তবতার কাছাকাছি থেকে গল্প সাজানো হবে, যাতে দর্শকরা একজন বন্দির ২৪ ঘণ্টার জীবনযাত্রা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান।
তিনি জানান, নির্মাতা হিসেবে কাজটি করতে গিয়ে বাস্তব ঘটনাকেই গুরুত্ব দিতে চান। একজন বন্দির দিন কীভাবে শুরু হয় এবং কীভাবে শেষ হয়—সেই বাস্তব চিত্রই এই ধারাবাহিকে দেখানো হবে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, খুব শিগগিরই এই ধারাবাহিকটির প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গল্প, চিত্রনাট্য এবং অভিনয়ের ক্ষেত্রেও নিজেই যুক্ত থাকবেন হিরো আলম। তবে এটি কোন প্রদর্শনমাধ্যমে প্রকাশ পাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার বাজারে চোরাইপথে আসছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, লেহেঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এসব তৈরি পোশাক নগরীর বিপণিবিতান ও শপিংমলে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে দেশীয় তৈরি পোশাক বাজার হারাচ্ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে কুমিল্লার ঈদ বাজার। নগরীর বিভিন্ন শপিংমলে ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, লেহেঙ্গাসহ বাহারি পোশাকের সমাহার দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের পোশাকের দোকানগুলোতে প্রায় ৯০ শতাংশই ভারতীয় তৈরি পোশাক।
এতে প্রশ্ন উঠেছে—এসব পোশাক কি বৈধ পথে দেশে আসছে, নাকি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাইপথে সরাসরি বাজারে প্রবেশ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লার পাঁচটি উপজেলার সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে সীমান্তের দূরত্ব মাত্র চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার। সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও পাহাড়ি ও গিরিপথগুলোতে চোরাকারবারিদের তৎপরতা রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে পোশাক চোরাচালান সিন্ডিকেট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি সিন্ডিকেট ভারত থেকে চোরাইপথে এসব পোশাক এনে বাজারজাত করছে। নারী ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় থ্রিপিস, লেহেঙ্গা ও শাড়ি।
চোরাইপথে দেশে প্রবেশের পর সিন্ডিকেট সদস্যরা বিভিন্ন দোকানের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব পোশাক বাজারজাত করছে এবং পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছে।
সূত্র জানায়, জেলার সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার বিষ্ণপুর এলাকার ৮০ ও ৮১ নম্বর পিলার, মতিনগর-বড়জালা এলাকার ৭৫ ও ৭৬ নম্বর পিলার, নিশ্চিন্তপুর এলাকার ৭৯ নম্বর পিলার এবং খাড়েরা-ফুলকুমারী এলাকার ৭২ নম্বর পিলার দিয়ে চোরাইপথে ভারতীয় পোশাক আনা হচ্ছে।
এছাড়া সদর দক্ষিণের লক্ষ্মীপুর, শিবের বাজার, কানেশতলা, আমানগন্ডা, কুমারডোগা, রাজেশপুর, বলেরডেপা এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল আশাবাড়ী, বুড়িচংয়ের শংকুচাইল ও খাড়েরা এলাকাসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পোশাক দেশের বাজারে প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।
নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার আধুনিক মার্কেট, সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক ম্যানশন, সমবায় মার্কেট এবং রেসকোর্স এলাকার বিভিন্ন বিপণিবিতানে ভারতীয় পোশাকের আধিক্য দেখা গেছে।
তবে বিক্রেতাদের দাবি, তারা বৈধ পথেই এসব পোশাক সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু কাস্টমস সূত্র বলছে, কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের কাপড় আমদানি বা রপ্তানি হয় না। ফলে এসব পোশাক চোরাইপথে দেশে প্রবেশ করেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে গিয়ে দেখা যায়, দেশীয় তৈরি কাপড় ও পোশাকের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। অধিকাংশ দোকানে ভারতীয় বিভিন্ন নকশার থ্রিপিস, লেহেঙ্গা ও শাড়ির সমাহার রয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, চোরাইপণ্য আটক করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। যখনই চোরাইপণ্য আটক করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে টহল জোরদারের কথা জানিয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
কুমিল্লাস্থ ১০ বিজিবির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু চোরাইপণ্য উদ্ধার করে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে নৌদুর্ঘটনায় মিন্টু মিয়া (৩৬) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় ফরিদ হোসেন (৩২) নামে আরেকজন ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিলমারী উপজেলার কড়াই বরিশাল ইউনিয়নের গাজীরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিন্টু মিয়া ওই এলাকার শাহার উদ্দিনের ছেলে। আর নিখোঁজ ফরিদ হোসেন ইসহাক আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে প্রবল দমকা হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদের ঘাটে বাঁধা নিজেদের নৌকা দেখতে যান মিন্টু মিয়া ও ফরিদ হোসেন।
ঝড়ের তীব্রতায় ঘাটে বাঁধা একটি নৌকা দড়ি ছিঁড়ে মিন্টু মিয়ার শরীরের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে ফরিদ হোসেন ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নিখোঁজের প্রায় ১৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ ফরিদকে উদ্ধারের জন্য স্বজন ও এলাকাবাসী শনিবার রাত থেকেই নদীতে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আঙ্গুর মিয়া জানান, ঘাটে বাঁধা নৌকা দেখতে গিয়ে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়েন তারা। এ সময় একটি নৌকা মিন্টু মিয়ার শরীরের ওপর আছড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং ফরিদ হোসেন নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।
তিনি আরও জানান, রোববার সকাল ৯টার দিকে মিন্টু মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিখোঁজ ফরিদকে উদ্ধারে স্বজন ও এলাকাবাসী এখনো নদীতে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার ডিউটি অফিসার আছমা আক্তার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন ভাতা ও উপকারভোগীদের সমন্বিতভাবে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, সরকার ধাপে ধাপে সব সুবিধাভোগীকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে কাজ করছে।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমেই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন অনুপস্থিত থাকায় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা বিতরণে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে ভাতা পাওয়ার জন্য উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করার ঘটনাও সামনে আসে, যা দুর্নীতির শামিল।
তিনি বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধ করতে সরকার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি পরিবারের সব সদস্যকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। ফলে একই পরিবার একাধিক সুবিধা পেলে তা সহজে শনাক্ত করা যাবে এবং প্রকৃত দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় মানুষদের সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার একদিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যেন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অতীতে তালিকা তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান তালিকা পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার চায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং যাদের জন্য এই সহায়তা নির্ধারিত, তারাই যেন প্রকৃতভাবে এর সুবিধা পান।