ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর পক্ষে স্পষ্ট জনরায় আসায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গণভোটে মোট ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬ জন, যা মোট ভোটারের ৬০.২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি (৬৮.০৭ শতাংশ) এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি (৩১.৯৩ শতাংশ)।
দুই দশক পর ২১০টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে ক্ষমতায় যাচ্ছে বিএনপি। তবে জুলাই সনদের কয়েকটি প্রস্তাবে আগে থেকেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে রেখেছে দলটি। ফলে সনদের সব ধারা বাস্তবায়ন কতটা নির্বিঘ্ন হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ইতিমধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।” তিনি আরও জানান, দলীয় ৩১ দফা ও জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামীর রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং নতুন সংসদ স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়নকারী সংসদে পরিণত হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। গণভোটকে নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণী ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট হিসেবে দেখলেও তারা সতর্ক করেছেন—জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
নতুন সরকারের সামনে তাই চ্যালেঞ্জ—সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতিশ্রুতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











