১৯৬৯ থেকে ১৯৭২—এই চার বছরে টানা ১৫টি একক হিট সিনেমা দিয়ে বলিউডে এক অনন্য ইতিহাস গড়েন কিংবদন্তি অভিনেতা রাজেশ খান্না। আজও অক্ষত থাকা এই রেকর্ডই তাকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে বলিউডের ‘প্রথম সুপারস্টার’ হিসেবে। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে তিনি ছিলেন বিলাসী জীবনযাপনের প্রতীক; বিপুল সম্পদ ও অগাধ জনপ্রিয়তা তার চারপাশে গড়ে তোলে এক রাজকীয় বলয়।
এই রাজকীয় জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতীক ছিল মুম্বাইয়ের কার্টার রোডে সমুদ্রমুখী বাংলো ‘আশীর্বাদ’। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলোটি শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং রাজেশ খান্নার অতুলনীয় তারকাখ্যাতি ও ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
গৌতম চিন্তামণির লেখা বই ‘ডার্ক স্টার: দ্য লনলিনেস অব বিয়িং রাজেশ খান্না’–তে উঠে এসেছে ‘আশীর্বাদ’ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বই অনুযায়ী, একসময় এই বাংলোটি কিনতে আগ্রহ দেখান সোহেল খান। বিষয়টি নিয়ে সালমান খান নিজে চিত্রনাট্যকার রুমি জাফেরিকে ফোন করেন এবং জানান, খান পরিবার একাধিক আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত। এমনকি রাজেশ খান্নার আয়কর বকেয়া পরিশোধের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি সম্পন্ন করতে মরিয়া ছিলেন সালমান খান; তিনি রাজেশ খান্নার প্রযোজনায় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন।
তবে এই প্রস্তাবে রাজেশ খান্নার প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র ও আবেগঘন। রুমি জাফেরির স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে, রাজেশ খান্না বলেছিলেন—‘আমি তোকে জামাইয়ের মতো ভাবি, আর তুই আমার বাড়ি বিক্রি করাতে চাস? আমাকে রাস্তায় নামাতে চাস?’ রুমি জাফেরি জানান, তিনি কেবল বার্তাবাহক—এই কথাটি বোঝাতেই তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।
‘আশীর্বাদ’ বাংলোর ভেতরেই ছিল রাজেশ খান্নার কথিত ‘দরবার’। সেখানে বসে তিনি প্রযোজকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাতেন। অতিথিদের তুলনায় খানিকটা উঁচুতে রাখা চেয়ারে বসে রাজকীয় ভঙ্গিতে সাক্ষাৎ দিতেন তিনি। পরিচিত সিল্কের লুঙ্গি-কুর্তা পরে, উঁচু আসনে বসে ‘রাজা ও প্রজা’র পার্থক্য যেন স্পষ্ট করেই তুলে ধরতেন।
তবে এই বাংলোর ভেতরের অংশে প্রবেশাধিকার ছিল খুবই সীমিত। কেবল ঘনিষ্ঠজনদের জন্যই খুলে যেত সেই দরজা। রাতভর চলত আড্ডা ও উৎসব-উল্লাস, চলত পানাহার। নির্বাচিত কয়েকজন ছাড়া অন্য কারও সেখানে প্রবেশের সুযোগ ছিল না।
সব মিলিয়ে ‘আশীর্বাদ’ ছিল শুধু একটি বাংলো নয়—রাজেশ খান্নার ক্ষমতা, একাকিত্ব, অহংকার ও তারকাখ্যাতির এক নীরব সাক্ষী।










