Home জাতীয়

ইউনূসকে ভিভিআইপি মর্যাদা: গেজেট গোপন বিতর্ক

2
0
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে জারি করা একটি গেজেটের মাধ্যমে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘ভেরি ভেরি ইমপর্ট্যান্ট পারসন’ (ভিভিআইপি) মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে সরকারি গেজেট হওয়া সত্ত্বেও প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের নির্দেশনায় এটি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি—যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্নার স্বাক্ষরে গেজেটটি জারি করা হয়। গেজেটে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১–এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী তাকে ভিভিআইপি মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো নথির ভিত্তিতেই গেজেটটি মুদ্রিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের নির্দেশনার কারণে এটি সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি।

এসএসএফ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পদক্ষেপ

সূত্র মতে, মূলত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় রাখতে এই মর্যাদা দেওয়া হয়। ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী ভিভিআইপি মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তির বাসভবন ও কর্মস্থলে এসএসএফ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

এছাড়া তার উপস্থিতিতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা তল্লাশি, সশস্ত্র নিরাপত্তা এসকর্ট এবং বিদেশ সফরের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ভিভিআইপি মর্যাদায় যে সুবিধা

ভিভিআইপি মর্যাদা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা, সরকারি প্রোটোকল সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক সহায়তা পান।

এর মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সশস্ত্র নিরাপত্তা এসকর্ট, নিরাপদ পরিবহন, বিমানবন্দরে অগ্রাধিকার সুবিধা, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত আসন এবং সরকারি গাড়ি ও নিরাপত্তা কনভয় ব্যবহারের সুযোগ।

দায়িত্বকালে নেওয়া অন্যান্য সিদ্ধান্ত

প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে ড. ইউনূসের নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—গ্রামীণ ব্যাংকের কর অব্যাহতি ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো, ব্যাংকটিতে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন লাইসেন্স ও অনুমোদন দেওয়া।

এছাড়া তার ‘সোশ্যাল বিজনেস’ ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সোশ্যাল বিজনেস ব্যাংকিং অধ্যাদেশের খসড়াও প্রস্তুত করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ত্যাগ করেন।

সূত্র:
বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেস, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here