২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ের ঘটনাবলি ও প্রাণহানির বিষয়টি ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন একাধিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তোলে। এক যুগের বেশি সময় পার হলেও ঘটনাগুলোর বিচার ও তদন্ত নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ওই দিনে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করলে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সমসাময়িক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনেই বিভিন্ন জেলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী কয়েক দিনেও সহিংসতা অব্যাহত থাকে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দাবি করছেন, রায়-পরবর্তী সময়ের সহিংসতায় তাদের বহু নেতাকর্মী ও সমর্থক নিহত হন এবং এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মামলা করতে চাইলে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সে সময় হতাহত ও বলপ্রয়োগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অতীতের সহিংসতার ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি।
আইনজীবী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধান হওয়াই গণতান্ত্রিক পন্থা। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তারা মত দেন।
এদিকে বিভিন্ন জেলার সংগঠন নেতারা জানিয়েছেন, অতীতের ঘটনাগুলোর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও মামলা-সংক্রান্ত কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অগ্রগতির তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও আইনজীবীদের তথ্য।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











