ইরানের ছোড়া শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে গিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুত নিয়ে চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে এসব ব্যয়বহুল প্রতিরোধক কতদিন টিকবে—তা নিয়ে কৌশলগত মহলে প্রশ্ন উঠছে।
সপ্তাহান্তে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও অংশীদার দেশগুলোর দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে পাল্টা হামলা চালায়। এটি ছিল ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান হামলার জবাব।
সংঘাত শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনী ‘শত শত’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বলে সোমবার জানিয়েছেন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন। তার ভাষ্য, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত লক্ষ্য শনাক্ত ও ধ্বংসে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তবে প্রতিটি সফল প্রতিহতের পেছনে ব্যবহার করতে হয়েছে অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর—যার মজুত সীমিত। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক স্টিমসন সেন্টার–এর জ্যেষ্ঠ ফেলো কেলি গ্রিয়েকো বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ফুরানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারদের ইন্টারসেপ্টর শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সংঘাতের শুরুতে ইসরাইলি মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত প্রতিরোধক সংখ্যার চেয়েও বেশি হতে পারে। তবে দুই দেশই ইরানের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও গুদাম ধ্বংসে অভিযান চালাচ্ছে। গ্রিয়েকোর মতে, এটি মূলত ‘উৎক্ষেপণ সক্ষমতা বনাম প্রতিরোধ সক্ষমতা’র প্রতিযোগিতা।
ড্রোন মোকাবিলায়ও ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার হচ্ছে, যদিও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় কম। কিন্তু সবচেয়ে তীব্র ঘাটতির আশঙ্কা ব্যালিস্টিক ইন্টারসেপ্টরেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য বহু-সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, প্রাথমিকভাবে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের পূর্বাভাস থাকলেও প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথও সম্ভাব্য সময়সীমা বাড়া-কমার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিল–এর প্রতিরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক জো কোস্টা সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চীনসহ অন্যান্য বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের জন্য প্রয়োজনীয় মার্কিন ইন্টারসেপ্টর মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ, ইন্দো-প্যাসিফিক থেকে মধ্যপ্রাচ্য—প্রতিটি অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু উৎপাদন সেই হারে বাড়ছে না। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সরবরাহ ও মজুত ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: জিও নিউজ।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











