Home আন্তর্জাতিক

শান্তি আলোচনার আগেই রাশিয়ার ‘নৃশংস’ হামলার নিন্দা ইউক্রেনের

25
0
ছবি : সংগৃহীত

শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দিনের ঠিক আগে ইউক্রেনে নতুন করে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কিয়েভ। রাতভর চালানো এসব হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (স্থানীয় সময়) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে এই হামলা চালানো হয়।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, এই “নৃশংস” হামলা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি নির্দেশে চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এই হামলা শুধু আমাদের জনগণের ওপর নয়, শান্তি আলোচনার টেবিলেও আঘাত হেনেছে।” সিবিহার ভাষায়, পুতিনের স্থান শান্তির টেবিলে নয়, বরং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায়।

২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা চলছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, কিছু অগ্রগতি হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ভূখণ্ড—এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীতে একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৬ হাজার ভবন তাপ সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ সময় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গেছে।

অন্যদিকে খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানান, শহরটিতে টানা হামলায় অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি মাতৃসদন হাসপাতাল এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি হোস্টেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল আমাদের জ্বালানি অবকাঠামো।” এর আগের সপ্তাহে কিয়েভের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় হামলার কারণে জেলেনস্কিকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সফর সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছিল।

এদিকে শান্তি আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূখণ্ড প্রশ্ন। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে ডনবাস অঞ্চল ও ২০১৪ সালে অবৈধভাবে দখল করা ক্রিমিয়াও রয়েছে। রাশিয়া এসব এলাকা ছেড়ে দিতে ইউক্রেনকে চাপ দিচ্ছে, তবে কিয়েভ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—ভূখণ্ড ছাড়ের প্রশ্নে কোনো আপস হবে না।

দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, “সবকিছুই জমি বা ভূখণ্ড নিয়ে। এই সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার একটি সমঝোতা হয়েছে, যদিও সেটি মার্কিন কংগ্রেস ও ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

শান্তি আলোচনার প্রথম দিন শেষে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ বলেন, বৈঠকে যুদ্ধ অবসান এবং একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী শান্তির পথে এগোনোর কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

BBC News, Reuters

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here