Home আন্তর্জাতিক

ইরাকে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ফেনীর তরুণসহ ৩ মৃত্যু

3
0
ছবি সংগৃহীত

পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মাত্র পাঁচ মাস আগে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফেনী সদর উপজেলার তরুণ মেহেদি হাসান নাহিদ (২১)। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই অকালেই নিভে গেল তার জীবন। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনায় নাহিদসহ তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইফতারের পর নাহিদ ও তার সঙ্গে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই রাতেই নাহিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক (৪৫) এবং তার ছেলে মো. সাব্বির (২২) হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে যান। পরে তারা সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু পরদিন দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখা যায় তারা তিনজনই মারা গেছেন।

নিহত নাহিদ ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দেবীপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকার মৃধা বাড়ির মোহাম্মদ মাহবুবুল হকের ছেলে। মাহবুবুল হকের দুই সন্তানের মধ্যে নাহিদ ছিলেন ছোট।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাহবুবুল হক প্রায় আট বছর ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত আছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাবার হাত ধরেই কাজের সন্ধানে সেখানে যান নাহিদ।

বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের চাচা মনিরুজ্জামান জানান, পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ করে বাবার মাধ্যমে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। তিনি সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে নাহিদের মা হোসনে আরা শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখতে চান বলে জানিয়েছেন। তিনি সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সহায়তা কামনা করেছেন।

ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, ঘটনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হয়নি। বিষয়টি জানানো হলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

সূত্র: পরিবার ও প্রবাসী সূত্র।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here