জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কুড়িগ্রাম দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ। এই জেলা থেকেই শুরু হবে উন্নয়নের যাত্রা। বঞ্চিতদের আর দাবি জানাতে বা মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করা হবে। কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে পারলে কর্মসংস্থানের অভাব থাকবে না। তিনি কুড়িগ্রামের নদীগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, নদী হত্যা করে এলাকাকে মরুভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাজেট লুটপাট হয়েছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ক্ষমতায় গেলে এসব অর্থ ফেরত আনার অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াত কোনো দলীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। তারা চায় ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। বিভক্তি নয়, সমতার ভিত্তিতে একটি বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য।
শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, রংপুর অঞ্চলের শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এক হাজার চার শতাধিক মানুষ জীবন দিয়েছেন। তাদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না। দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই শহীদদের স্বপ্ন ছিল।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধর্ম বা জাতিভেদ নয়, সব নারীর সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সভায় তিনি কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এনসিপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষেও ভোট চান তিনি।
সভাপতির বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন। সভায় জামায়াত, এনসিপি ও শরিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। অতীতের নির্যাতনের পরও দলটি কোনো প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়নি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবে না।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











