চট্টগ্রামে জ্বালানি তেল সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের চালকরা। নগরীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘অকটেন নেই’ বা ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলতে দেখা যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহনে তেল বিক্রি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনও মাঠে নেমেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে নজরদারি বাড়াতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা সরাসরি তেল বিক্রির কার্যক্রম তদারকি করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। এতে করে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে শুরু করলে সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ঈদের আগে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ঈদ-পরবর্তী সময়ে আবারও তেলের সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। বর্তমানে অনেক পাম্পে নির্দিষ্ট সময় ও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদার অর্ধেক জ্বালানিও সরবরাহ করা হচ্ছে না। এছাড়া ব্যাংকিং জটিলতার কারণে অনেক ডিলার সময়মতো পে-অর্ডার করতে না পারায় তেল উত্তোলন ব্যাহত হয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, যেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে মোটরসাইকেল ও রাইড-শেয়ার চালকদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। অনেক পাম্প নির্ধারিত সময়ের আগেই তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন













