Home সর্বশেষ

তেঁতুলিয়ায় বালু উত্তোলনে ভয়াবহ নদীভাঙন

1
0
ছবি সংগৃহীত।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে নদীভাঙন। এতে নদী তীরবর্তী প্রতিরক্ষা বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ফলে উপজেলার কয়েকটি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে নজরুলনগর ও বিচ্ছিন্ন মুজিবনগর ইউনিয়নের দুই পারের লক্ষাধিক মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে মসজিদ, দোকানপাট, মাছঘাটসহ শতাধিক স্থাপনা। স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নজরুলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর মাঝখানে দিনের আলোতেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। অন্তত সাত থেকে আটটি বড় ড্রেজার জাহাজ দিয়ে প্রতিনিয়ত নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে।

উত্তোলিত বালু পরে ১০ থেকে ১২টি জাহাজে করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদী শাসনের জন্য ফেলা কংক্রিট ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী রিযাজ ও সমাজকর্মী জাহিদসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, নজরুলনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ড্রেজার চালক জানান, প্রতিটি ড্রেজার জাহাজ থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার টাকা করে মাসোহারা দিতে হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় বারো লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী মাহমুদুল হাসানের বড় ভাই এবং স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহিদুল শিকদার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

এ ছাড়া একই ইউনিয়নের যুবদল নেতা রুবেল শিকদার ও তানজিবসহ আরও কয়েকজন এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আনিসুর রহমান জুলফিকার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী শাসনের জন্য ফেলা বড় বড় ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীর গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান মুন্সি বলেন, নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে এতদিন টিকে আছি। কিন্তু বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত হয়ে হঠাৎ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নজরুলনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি নিজেও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হক বলেন, বাবুরহাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা গেছে। যারা এ কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here