Home সারাদেশ

ঈদ বাজারে চোরাই ভারতীয় পোশাকের দাপট

5
0
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার বাজারে চোরাইপথে আসছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, লেহেঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এসব তৈরি পোশাক নগরীর বিপণিবিতান ও শপিংমলে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে দেশীয় তৈরি পোশাক বাজার হারাচ্ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে কুমিল্লার ঈদ বাজার। নগরীর বিভিন্ন শপিংমলে ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, লেহেঙ্গাসহ বাহারি পোশাকের সমাহার দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের পোশাকের দোকানগুলোতে প্রায় ৯০ শতাংশই ভারতীয় তৈরি পোশাক।

এতে প্রশ্ন উঠেছে—এসব পোশাক কি বৈধ পথে দেশে আসছে, নাকি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাইপথে সরাসরি বাজারে প্রবেশ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লার পাঁচটি উপজেলার সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে সীমান্তের দূরত্ব মাত্র চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার। সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও পাহাড়ি ও গিরিপথগুলোতে চোরাকারবারিদের তৎপরতা রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে পোশাক চোরাচালান সিন্ডিকেট।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি সিন্ডিকেট ভারত থেকে চোরাইপথে এসব পোশাক এনে বাজারজাত করছে। নারী ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় থ্রিপিস, লেহেঙ্গা ও শাড়ি।

চোরাইপথে দেশে প্রবেশের পর সিন্ডিকেট সদস্যরা বিভিন্ন দোকানের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব পোশাক বাজারজাত করছে এবং পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, জেলার সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার বিষ্ণপুর এলাকার ৮০ ও ৮১ নম্বর পিলার, মতিনগর-বড়জালা এলাকার ৭৫ ও ৭৬ নম্বর পিলার, নিশ্চিন্তপুর এলাকার ৭৯ নম্বর পিলার এবং খাড়েরা-ফুলকুমারী এলাকার ৭২ নম্বর পিলার দিয়ে চোরাইপথে ভারতীয় পোশাক আনা হচ্ছে।

এছাড়া সদর দক্ষিণের লক্ষ্মীপুর, শিবের বাজার, কানেশতলা, আমানগন্ডা, কুমারডোগা, রাজেশপুর, বলেরডেপা এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল আশাবাড়ী, বুড়িচংয়ের শংকুচাইল ও খাড়েরা এলাকাসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পোশাক দেশের বাজারে প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।

নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার আধুনিক মার্কেট, সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক ম্যানশন, সমবায় মার্কেট এবং রেসকোর্স এলাকার বিভিন্ন বিপণিবিতানে ভারতীয় পোশাকের আধিক্য দেখা গেছে।

তবে বিক্রেতাদের দাবি, তারা বৈধ পথেই এসব পোশাক সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু কাস্টমস সূত্র বলছে, কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের কাপড় আমদানি বা রপ্তানি হয় না। ফলে এসব পোশাক চোরাইপথে দেশে প্রবেশ করেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

নগরীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে গিয়ে দেখা যায়, দেশীয় তৈরি কাপড় ও পোশাকের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। অধিকাংশ দোকানে ভারতীয় বিভিন্ন নকশার থ্রিপিস, লেহেঙ্গা ও শাড়ির সমাহার রয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, চোরাইপণ্য আটক করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। যখনই চোরাইপণ্য আটক করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে টহল জোরদারের কথা জানিয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

কুমিল্লাস্থ ১০ বিজিবির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু চোরাইপণ্য উদ্ধার করে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুত্র: স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here