বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট আলিয়া মাদরাসার মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ—ন্যায়বিচার, সততা, মানবিকতা ও সাম্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা সম্ভব এবং দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের একটি রাজনৈতিক দল আল্লাহর সঙ্গে শিরক করছে এবং মানুষকে বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলছে। এ ধরনের বক্তব্য আল্লাহর নাফরমানির শামিল। তিনি বলেন, “যার মালিক আল্লাহ, যার অধিকার একমাত্র আল্লাহর—সেখানে মানুষের নামে এসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া মানেই জনগণকে ধোঁকা দেওয়া। শুধু ধোঁকাই নয়, মুসলমানদের শেরেকির পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে—নাউজুবিল্লাহ।”
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই সময়ে কারা কী ভূমিকা রেখেছিল, তা দেশের মানুষ জানে। তিনি দাবি করেন, যাদের কর্মকাণ্ডের কারণে লক্ষ মানুষ শহিদ হয়েছেন এবং মা-বোনেরা নির্যাতিত হয়েছেন, জনগণ তাদের ইতোমধ্যে চিনে নিয়েছে।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই কুফরি, হটকারিতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করেছি, এখন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সময়।”
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত ১৬ বছরে মানুষের ভোট ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ব্যালট ছিনতাই, নিশিরাতের ও ডামি নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। এ সময়ে বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ।”
তথাকথিত উন্নয়নের নামে অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যারা মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, গুম-খুনের রাজনীতি চালু করেছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ জনগণ আবারও প্রমাণ করেছে—দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ।











