উড্ডয়নের পরই বিমান বিধ্বস্ত, নিহত বহু
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া-এর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় আরও বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৩ মার্চ) দেশটির আমাজন অঞ্চলের পুতুমায়ো প্রদেশের পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি পেরু ও ইকুয়েডর সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেড্রো সানচেজ জানিয়েছেন, ১২১ আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সামরিক পরিবহন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন সৈন্য।
বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, হারকিউলিস সি-১৩০ মডেলের এই বিমানটিতে ১১০ জন সৈন্য এবং ১১ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তারা একটি সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে অন্য একটি শহরে যাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। অন্তত ৭৭ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলে করে আহতদের দ্রুত স্থানান্তর করা হচ্ছে।
কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা জানান, বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর এটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই দুর্ঘটনাকে জাতীয় শোক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সামরিক বাহিনীর বিমান ও সরঞ্জাম আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রশাসনিক জটিলতার সমালোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
এই দুর্ঘটনা কলম্বিয়ার জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হচ্ছে।
সূত্র
চ্যানেল নিউজ এশিয়া
হরমুজে উত্তেজনা, তেলের বাজারে আগুন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং ইসরাইলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি চালু না করলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, চলমান সামরিক সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বিশ্ববাজারে।
বার্তা সংস্থার তথ্যমতে, বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যায়। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মূল্য বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে। যদিও কিছু সময় পর দাম সামান্য কমে আসে, তবে বাজারে অস্থিরতা থেকেই গেছে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায় এবং তা ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারের বেশি স্পর্শ করে। পরে কিছুটা কমে ১১১ ডলারের কাছাকাছি স্থির হয়।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর আগে তেলের দাম অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
সূত্র
দ্য গার্ডিয়ান, এএফপি
ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তাণ্ডব, আতঙ্ক ছড়াচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে। ইসরাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে দফায় দফায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। এতে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
শনিবার একাধিক দফায় চালানো হামলায় ইসরাইলের ডিমোনা ও আরাদ শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে হামলার পরপরই সাইরেন বাজতে শুরু করে। নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয় এবং নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরাইলের সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে এক রাতেই প্রায় ১৫০ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি চিকিৎসা সেবা জোরদার করেছে।
এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং তা প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। এক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক সতর্কবার্তা জারি করা হয়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে।
মধ্য ও উত্তর ইসরাইলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কিছু এলাকায় হতাহতের খবর নিশ্চিত করা হলেও অনেক তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সূত্র
আলজাজিরা
ঐক্যের ডাক তারেক রহমানের, গড়তে চান প্রত্যাশিত বাংলাদেশ
দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঈদ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ এবং সাম্প্রতিক সময়ের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। ঈদের এই পবিত্র দিনে মহান আল্লাহর কাছে তিনি প্রার্থনা করেন, যেন দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, একটি প্রত্যাশিত দেশ গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এজন্য তিনি দেশবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। জনগণের সমর্থন ও অংশগ্রহণ থাকলে সরকার দেশের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
ঈদের দিন নামাজ আদায়ের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা, শিল্পী-সাহিত্যিকসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি কুশল বিনিময় করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে গিয়ে তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়া-এর কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরবর্তীতে তিনি গুলশানের বাসভবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান বলে জানা গেছে।
সূত্র:
গণমাধ্যম প্রতিবেদন
ঈদে ঐক্যের বার্তা দিলেন তারেক রহমান, শুভেচ্ছা বিশ্ব মুসলিমকে
দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই পবিত্র উৎসব জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি দেশ-বিদেশের মুসলমানদের উদ্দেশে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানান। বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আনন্দ, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে।
তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস মানুষকে সংযম, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এই সময়ের ইবাদত মানুষের মধ্যে আত্মসংযম তৈরি করে এবং অন্যের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। এর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। ঈদের আনন্দ যেন ধনী-গরিব, ছোট-বড় সকল ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়, সে আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন ঈদের আনন্দ, রহমত ও বরকত সবার জীবনে নেমে আসে এবং দেশ ও জাতি শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়।
সূত্র:
গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতি