Home জাতীয়

দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ

4
0
ছবি সংগৃহীত।

দেশে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে ধর্মীয় শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রায় ৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এসব জটিলতা দ্রুত সমাধান করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই নিয়োগে কারিআনা পাশধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় ভর্তির পদ্ধতি নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল, তবে সেটি তার কাছে খুব যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোকে সরকারের নীতিমালার আওতায় এনে দেশের নিয়মকানুন অনুসারে যুগোপযোগী করার বিষয়েও কাজ চলছে। পাশাপাশি ইবতেদায়ী ও কওমী শিক্ষাসহ দেশের সব ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে মোট পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম পর্যায় জুলাই ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান রয়েছে।

এছাড়া ঢাকা মহানগর ও পূর্বাচলে নান্দনিকতা বৃদ্ধিসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫০টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত চলবে।

মন্ত্রী জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে দেশের ৫৮টি জেলায় কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ শীর্ষক কোর্স বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের বিকল্প শিক্ষার সুযোগ দিতে দেশের ৬৪টি জেলার প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় বিকল্প শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এই প্রকল্পটি ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন পেয়েছে এবং জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সুত্র: জাতীয় সংসদ

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here