ইসলামে জাকাত ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পদের ধরন ও মালিকানার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যৌথ ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক সময় জাকাতের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবসার ক্ষেত্রে নগদ টাকা, বাকি-পাওনা অর্থ এবং ব্যবসায়িক পণ্য—সবকিছুই জাকাতযোগ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। তাই জাকাত নির্ধারণের সময় এসব সম্পদ একত্রে হিসাব করতে হয়।
তবে যৌথ ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জাকাত প্রত্যেক অংশীদারের ব্যক্তিগত মালিকানার ভিত্তিতে ফরজ হয়। অর্থাৎ ব্যবসার মোট সম্পদের উপর সম্মিলিতভাবে জাকাত ফরজ হয় না; বরং প্রত্যেক অংশীদার তার নিজ নিজ অংশ অনুযায়ী জাকাত প্রদান করবেন।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যবসায় পাঁচ লাখ টাকা নগদ থাকে এবং আট লাখ টাকা বাকি-পাওনা থাকে, তাহলে এই অর্থ এবং ব্যবসায় থাকা পণ্যসমূহ একত্রে হিসাব করে মোট সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
এরপর ব্যবসার অংশীদারদের মধ্যে যদি মালিকানা সমান হয়, তাহলে মোট সম্পদ তিন ভাগে ভাগ করে প্রত্যেকের অংশ অনুযায়ী জাকাত নির্ধারণ করতে হবে। যদি প্রত্যেকের অংশ নেসাব পরিমাণ সম্পদের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে তাদের প্রত্যেকের উপর জাকাত আদায় করা ফরজ হবে।
তবে বাকি-পাওনা টাকার ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি কোনো অর্থ এমন হয় যা পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই, তাহলে সেই অংশের উপর জাকাত দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু যদি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সেই টাকাও জাকাতের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ধর্মীয় আলেমরা বলেন, সঠিকভাবে জাকাত হিসাব করে আদায় করলে সম্পদের পবিত্রতা বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে দরিদ্র মানুষের অধিকারও নিশ্চিত হয়।
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১৫৬২; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, বর্ণনা ৭১০৫; আলজাওহারাতুন্নায়্যিরাহ।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











