ইরানের ইসফাহান শহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের একটি ভিডিও প্রকাশ করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। মঙ্গলবার ভোরে সংঘটিত এই ঘটনার ভিডিওতে একের পর এক বিস্ফোরণের পর বিশাল অগ্নিগোলক ও আগুনের লেলিহান শিখা আকাশকে কমলা রঙে রাঙিয়ে তুলতে দেখা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলেও এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। ফলে ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য যৌথ হামলার ফুটেজ, যা ইসফাহানের একটি বড় অস্ত্রাগার বা গোলাবারুদ ডিপোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
প্রায় ২৩ লাখ মানুষের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরে সামরিক স্থাপনাও রয়েছে, যার মধ্যে বদর বিমানঘাঁটির অবস্থান উল্লেখযোগ্য। তবে প্রকাশিত ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি গণমাধ্যম।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, হামলায় শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভূগর্ভস্থ স্থাপনাও ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ধরনের বিস্ফোরণের ফলে ধারাবাহিক দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে, যা আশপাশে প্রবল কম্পন ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে।
এদিকে, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় মজুদ ইসফাহানের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নিয়েছে। ফলে ওই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনার একদিন আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে ইরানের জ্বালানি খাত, অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। একই অভিযোগ করে আসছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu, যিনি দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো এখনো এ ধরনের দাবির পক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয়নি। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল একটি বিস্ফোরণ নয়; বরং এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার অংশ, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিতে পারে।
সূত্র:
এনডিটিভি
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন













