ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরও নির্বাচনি এলাকা থেকে আগাম প্রচার সামগ্রী পুরোপুরি অপসারণ করেনি বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। রাজধানীর পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে এখনো ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার ঝুলে থাকতে দেখা গেছে, যা সরাসরি নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসি সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনগুলোকে লিখিতভাবে জানানো হয়। নির্দেশনার পর রাজধানীর প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর কাজ শুরু হলেও এক মাস পেরিয়ে গেলেও অলিগলি ও আবাসিক এলাকা থেকে সেগুলো পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি।
সোমবার সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার, হাজিনগর, মাতুয়াইল, কোনাপাড়া, সারুলিয়া, ডগাইর, আমুলিয়া, রাজাখালি, মিরপাড়া ও নড়াইবাগসহ বিভিন্ন অলিগলি ও অভ্যন্তরীণ সড়কে প্রার্থীদের পোস্টার এখনো দৃশ্যমান। একই চিত্র দেখা গেছে মুকদা, বাসাবো, খিলগাঁও ও মানিকনগরের পাড়া-মহল্লার ভেতরেও।
পুরান ঢাকার প্রধান সড়কগুলো তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকলেও লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, চকবাজার, বংশাল, কোতোয়ালি ও ওয়ারী এলাকার অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় ঝুলে থাকতে দেখা গেছে ছোট-বড় ব্যানার ও ফেস্টুন। মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও কালশী এলাকাতেও একই অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পরও যদি প্রার্থীরা তাদের প্রচার সামগ্রী অপসারণ না করেন, তাহলে তা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন। এসব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করা জরুরি ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু ইসির একার দায়িত্ব নয়। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত না হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এখনো কোথাও আগাম প্রচার সামগ্রী থেকে থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে প্রার্থীদের দাবি, ইসি নির্দেশনার পরপরই কর্মী-সমর্থকদের ব্যানার ও পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ স্থান থেকে সেগুলো সরানো হয়েছে। কিছু জায়গায় অল্প কিছু পোস্টার রয়ে গেলেও সেগুলো দ্রুত অপসারণ করা হবে। তারা আরও দাবি করেন, নতুন করে কোথাও ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়নি এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই তাদের কার্যক্রম চলছে।
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। নির্দেশনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় আচরণবিধি কার্যকরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।











