ডেস্ক রিপোর্ট | স্বাস্থ্য
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “চোখের মাইট” নিয়ে নানা ভিডিও ও পোস্ট ভাইরাল হয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। অনেকেই দাবি করছেন, এই মাইট রাতে চোখের পাপড়িতে ঘোরাফেরা করে, তেল খায় এবং বর্জ্য ত্যাগ করে—যার ফলে সকালে চোখে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়।
তবে চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের মাইট নামে পরিচিত ডেমোডেক্স (Demodex) আসলে মানুষের ত্বকের একটি স্বাভাবিক অংশ। আন্তর্জাতিক চর্মরোগ ও চক্ষুবিজ্ঞান গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ত্বকে এই মাইটের অস্তিত্ব রয়েছে।
ডেমোডেক্স এতটাই ক্ষুদ্র যে খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। এগুলো সাধারণত চোখের পাপড়ির লোমকূপ ও তেল গ্রন্থির ভেতরে বাস করে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ও মৃত কোষ খেয়ে বেঁচে থাকে। গবেষণায় আরও জানা যায়, এই মাইটগুলো রাতে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় থাকে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ডেমোডেক্স কোনো ক্ষতি করে না। শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে কোনো কারণে মাইটের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে—যাকে ডেমোডেক্স ওভারগ্রোথ বলা হয়—তখন কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত মাইটের কারণে চোখের পাতায় লালচে ভাব, চুলকানি, খসখসে অনুভূতি, জ্বালাপোড়া এবং কখনও চোখের পাতার প্রদাহ বা ব্লেফারাইটিস হতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা মানুষ, চোখের অপরিচ্ছন্নতা বা কিছু ত্বকজনিত রোগে আক্রান্তদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এ সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। নিয়মিত চোখের পাতা পরিষ্কার রাখা, ঔষধযুক্ত আইলিড ওয়াইপ ব্যবহার এবং প্রয়োজনে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—গুজবে কান না দিয়ে চোখের পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











