ডেস্ক রিপোর্ট:
ডিজিটাল যুগে সাইবার হামলা এখন দেশের নিরাপত্তার অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সরকারি ওয়েবসাইট, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার—সবকিছুই রয়েছে ঝুঁকির মুখে। অথচ দেশে বিপুল সংখ্যক দক্ষ তরুণ হ্যাকার থাকলেও তাদের অনেকেই কাঠামোগতভাবে রাষ্ট্রীয় কাজে যুক্ত নন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নৈতিক হ্যাকারদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের সাইবার নিরাপত্তা অনেকাংশে শক্তিশালী করা সম্ভব। বর্তমানে বেশিরভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় মাঝেমধ্যে তথ্য ফাঁস, ওয়েবসাইট হ্যাক বা সিস্টেম বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটছে।
তরুণ প্রযুক্তিবিদদের অভিযোগ, দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তাদের জন্য সরকারি পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ সীমিত। ফলে অনেকেই বেসরকারি খাত বা বিদেশমুখী হয়ে পড়ছেন। আবার কেউ কেউ অনিয়ন্ত্রিতভাবে নিজেদের দক্ষতা ব্যবহার করছেন, যা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এ অবস্থায় নৈতিক হ্যাকারদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ ও সরকারি তত্ত্বাবধানে কাজে লাগানোর দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি কেন্দ্রীয় সাইবার ইউনিট গঠন করে সেখানে দক্ষ হ্যাকারদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তারা সরকারি সার্ভার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারবেন।
এছাড়া নিয়মিত সাইবার মহড়া, নিরাপত্তা অডিট এবং ত্রুটি শনাক্তকরণ কার্যক্রম চালু করলে আগাম ঝুঁকি প্রতিরোধ সম্ভব হবে। এতে করে বিদেশি সাইবার হামলা কিংবা অভ্যন্তরীণ নাশকতার চেষ্টা প্রতিহত করা সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, নৈতিক হ্যাকারদের জন্য প্রণোদনা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে তারা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন এবং রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখতে উৎসাহিত হবেন।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে সাইবার নিরাপত্তাকে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করে নৈতিক হ্যাকারদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন













