ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পরও যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কমান্ডার নিহত হওয়ার পরও বাহিনীটি কৌশলগতভাবে দ্রুত পুনর্গঠন করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই নতুন কৌশলের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর আগেই আইআরজিসি তাদের কমান্ড কাঠামো আংশিক বিকেন্দ্রীকরণ করে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিকেন্দ্রীকরণ কৌশলে ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের হাতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার সিদ্ধান্ত দেওয়ায় ভুল–বোঝাবুঝি বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
৪ মার্চ ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশ তুরস্কেও ইরানের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। যদিও তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতেও আইআরজিসির প্রভাব ব্যাপক। নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে তাদের উপস্থিতি এতটাই শক্তিশালী যে দেশটিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ বা সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করা সহজ হয়ে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরানে গণঅভ্যুত্থান বা সরকার পরিবর্তনের যে আশা করা হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা “ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান”–এর আইআরজিসি বিষয়ক গবেষণা প্রধান কাসরা আরাবি মনে করেন, যদি সংঘাত হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে, তবে ভবিষ্যতে আইআরজিসির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব আরও বাড়বে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে মোজতবা খামেনি–এর নাম আলোচনায় রয়েছে। আইআরজিসির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভবিষ্যতের ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাগাতার হামলায় যদি উচ্চ ও মধ্যম সারির কমান্ডারদের ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকে, তবে আইআরজিসির কৌশলগত সংহতি দীর্ঘমেয়াদে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে। তবুও বাহিনীর ভেতরে মতভেদ ও উপদলীয় কোন্দল থাকলেও বহিরাগত হামলার সময় তারা সাধারণত আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে।
বর্তমানে ইরানের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তে আইআরজিসির সরাসরি প্রভাব রয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তিও সাবেক আইআরজিসি সদস্য হওয়ায় বাহিনীটির প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স (Reuters)
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











