Home আন্তর্জাতিক

উপসাগরে তাণ্ডব শাহেদ ড্রোনের আঘাত

4
0
ছবি সংগৃহীত।

ইউক্রেন যুদ্ধে বহুল ব্যবহৃত ইরানের তৈরি শাহেদ–১৩৬ ড্রোন এখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আলোচনায়। সাম্প্রতিক সংঘাতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই ড্রোন ব্যবহার করছে ইরান

গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েতসংযুক্ত আরব আমিরাত–এ কয়েক শ ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ভেতরে হামলা চালানোর পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কীভাবে কাজ করে শাহেদ–১৩৬

শাহেদ–১৩৬ একটি ডেল্টা-উইং ‘লোইটারিং মিউনিশন’। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিটার এবং ডানার বিস্তার ২ দশমিক ৫ মিটার। এটি প্রায় ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। সর্বোচ্চ দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ড্রোনটি তুলনামূলক ধীরগতির হলেও ইঞ্জিনের কর্কশ শব্দের জন্য সহজে চেনা যায়। লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছে এটি সরাসরি ঝাঁপিয়ে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি অনেক সস্তা—প্রতিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ হাজার ডলার।

রাডার এড়াতে ড্রোনগুলো নিচু দিয়ে উড়ে এবং আগে থেকেই নির্ধারিত জটিল রুট অনুসরণ করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দূর থেকেও অপারেটরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকায় শেষ মুহূর্তে দিক পরিবর্তন সম্ভব।

সাম্প্রতিক হামলা ও প্রভাব

সোমবার বিকেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের ওপর ৬৮৯টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়; এর মধ্যে ৬৪৫টি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রায় ৬ শতাংশ ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

বাহরাইন থেকে পাওয়া ভিডিওতে একটি ড্রোন বহুতল ভবনে আঘাত হানতে দেখা গেছে। আরেকটি ফুটেজে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়ে গিয়ে একটি রাডার ডোমে আঘাত হানার দৃশ্য ধরা পড়ে।

এর আগে ২০২১ সালে ইসরাইলি মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজ ‘মার্সার স্ট্রিট’-এ হামলার মাধ্যমে এই ড্রোনের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় হামলাতেও অনুরূপ ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ রিসার্চ সেন্টার’ এই ড্রোনের নকশা তৈরি করে, যা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)–র অধীন। ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বিশ্বজুড়ে ড্রোনটি পরিচিতি পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে ‘ঝাঁক বেঁধে’ ড্রোন ব্যবহার একটি কার্যকর কৌশল। ড্রোনের আড়ালে আরও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই কৌশলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here