রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন রায়েরবাজার এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ধারালো অস্ত্র ও রক্তমাখা পোশাক জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে মূল সন্দেহভাজন সিয়ামকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে হাজারীবাগ থানাধীন হায়দার হোটেলের গলির ভেতরে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিন্তি (ছদ্মনাম)। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের সখীপুর উপজেলার কাছিকাটা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের মেয়ে শারমিন পরিবারসহ ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
বুধবার রাত ৮টার দিকে ছোট ভাইকে নিয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি। কিছুক্ষণ পর এলাকায় হঠাৎ চিৎকার ও হইচই শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক তরুণের সঙ্গে হেঁটে যাওয়ার সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। আরেকটি ভিডিওতে রক্তমাখা ছুরি হাতে এক তরুণকে দেখা যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে তাকে শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে Dhaka Medical College Hospital-এর জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
Dhaka Metropolitan Police-এর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। অভিযুক্ত আগে থেকেই ছুরি সঙ্গে এনেছিল। ঘটনাস্থলে অনেক লোকজন থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: হাজারীবাগ থানা পুলিশ ও ডিএমপি কর্মকর্তাদের বক্তব্য।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











