Home আরও ইসলাম ও জীবন

গর্ভাবস্থায় রোজা: কী বলছে ইসলাম?

7
0
ছবি: সংগৃহীত

প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ সবার জন্য রোজা রাখা ফরজ। পবিত্র Qur’an-এ আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)

তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। সাধারণ অবস্থায় গর্ভবতী নারীর জন্যও রোজা রাখা ফরজ। কিন্তু রোজা রাখার কারণে যদি তার নিজের বা গর্ভের সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে তিনি রোজা ভাঙতে পারবেন। পরবর্তীতে সুস্থ অবস্থায় সেই রোজাগুলো কাজা আদায় করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে,
“তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফর অবস্থায় থাকলে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪)

হাদিসেও এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। সাহাবি Anas ibn Malik (রা.) থেকে বর্ণিত এক ঘটনায় দেখা যায়, সফর অবস্থায় রোজা ও নামাজ সংক্রান্ত ছাড়ের কথা বলেছেন মহানবী Muhammad (সা.)। তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা মুসাফিরের রোজা ও অর্ধেক নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন এবং গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী নারীদের রোজা মাফ করে দিয়েছেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৭১৫)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় সাহাবি Abdullah ibn Abbas (রা.) বলেন, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী নারী রমজানের রোজা ভাঙতে পারবেন, তবে পরে তা কাজা করে নিতে হবে। এর পরিবর্তে মিসকিনদের খাবার দেওয়ার বিধান নেই। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ৭৫৬৪)

অতএব, ইসলামে গর্ভবতী নারীর জন্য রোজা রাখা ফরজ হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে রোজা ভাঙার সুযোগ রয়েছে। তবে পরবর্তীতে কাজা আদায় করা আবশ্যক।

সূত্র: পবিত্র কোরআন (সুরা বাকারা ১৮৩–১৮৪), সুনানে তিরমিজি (হাদিস: ৭১৫), মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক (হাদিস: ৭৫৬৪)।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here