উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন Workers’ Party of Korea আবারও Kim Jong Un-কে দলটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করেছে। পিয়ংইয়ংয়ে চলমান দলের নবম কংগ্রেসে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এ পদে বহাল রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া কংগ্রেসের চতুর্থ দিনে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Korean Central News Agency (কেসিএনএ) এ ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৪০-এর দশক থেকে কিম পরিবারের একচ্ছত্র শাসনের ধারাবাহিকতায় এ পুনর্নিয়োগ মূলত একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবেই বিবেচিত।
কংগ্রেসের উদ্বোধনী বক্তব্যে কিম দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি ঐতিহাসিক কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তিকে ‘যুদ্ধের প্রধান রক্ষাকবচ’ আখ্যা দিয়ে তা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই কংগ্রেসে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। ২০২১ সালের কংগ্রেসের পর এবার দলের নীতিনির্ধারণী কমিটি বা প্রেসিডিয়ামে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। ৩৯ সদস্যের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে কিমের কন্যা Kim Ju-ae-কে ঘিরে জল্পনা তীব্র হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সী জু অ্যায়ে-কে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তার নিয়মিত উপস্থিতি এ ধারণাকে জোরদার করেছে।
কিমের পুনর্নির্বাচনে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বার্তায় তিনি চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায়’ রচনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। চীন দেশটির বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ও প্রধান মিত্র হলেও পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেইজিং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আগামী কয়েক দিনে কংগ্রেস থেকে উত্তর কোরিয়ার নতুন সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: BBC News.
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











