সারা দেশে ২৯৯ আসনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলে দেখা যাচ্ছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
তবে ফল ঘোষণার পর শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা—কবে এবং কীভাবে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা? আর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই বা কী?
শপথ কত দিনের মধ্যে?
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ বেসরকারি ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিন দিনের গণনা শুরু হয় না; সরকারি গেজেট প্রকাশের পরই সময় গণনা শুরু হবে।
এ ক্ষেত্রে গেজেট প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
শপথ কে পড়াবেন?
অতীতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ ও স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে দুটি পথের কথা বলা হয়েছে—
১. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন।
২. নির্ধারিত ব্যক্তি তিন দিনের মধ্যে শপথ না পড়ালে, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আগেই জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর চায়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—শপথ পড়াতে পারেন; তা না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকার গঠন কীভাবে?
সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়েছে সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে। সেখানে বলা হয়েছে, যে সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতীয়মান হবেন, রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।
অর্থাৎ ১৫১ বা তার বেশি আসনে জয়ী দল বা জোটের নেতাকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যত তাদের দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং আগের সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শপথগ্রহণের অব্যবহিত পরই দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এখন সবার নজর সরকারি গেজেট প্রকাশ ও শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।
সূত্র:
বাংলাদেশের সংবিধান (অনুচ্ছেদ ১৪৮ ও ৫৬), সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











