বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও নৈতিক বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে দলীয় সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ফেরদৌস আলম। একই সঙ্গে তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সোমবার সুনামগঞ্জ পৌর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীই সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে রয়েছে। জুলাই আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশ্নে আপাতত জামায়াতে ইসলামীকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন তারা। সে কারণে দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভবিষ্যতে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেরদৌস আলম। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। দীর্ঘ ১৭ বছর মামলা-হামলা, জেল-জুলুম সহ্য করে তিনি দলের রাজনীতি করে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত নতুন বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ৫ আগস্টের পর তাহিরপুর উপজেলায় লুটপাট ও দুর্নীতি বেড়েছে, যার সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফেরদৌস আলম বলেন, আগের মতো এখনও সাধারণ মানুষ লুটপাটকারীদের নাম প্রকাশ্যে বলতে ভয় পাচ্ছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং যাদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তাদের অনেককেই পুনরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান বিএনপি জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। তাই বিবেকের তাড়না ও দেশপ্রেম থেকেই তারা বিএনপির রাজনীতি ও সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন











