Home জাতীয়

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: মাহফুজ আলম

17
0
ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন মাহফুজ আলম
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইউকের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে বক্তব্য রাখছেন মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ আদতে একই রাজনৈতিক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তার মতে, দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াত থাকবে, আবার জামায়াত থাকলেও আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বজায় থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইউকে-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পেছনে এই রাজনৈতিক সমীকরণকেই প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেন মাহফুজ আলম।

সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ বা থার্ড অল্টারনেটিভ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। তবে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনসিপি যখন পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই স্বপ্ন পুরোপুরি ভেস্তে যায়।

জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে, তারা পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এমন বহু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, যার কোনো গ্রহণযোগ্য উত্তর নেই। কারণ, বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে দলটির স্বচ্ছ ও আধুনিক কোনো ভিশন নেই।

তার মতে, আদর্শিক অবস্থান, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি এবং নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে জামায়াতের কোনো বাস্তবসম্মত মিল নেই। এক পর্যায়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে যাওয়া। যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে এবং জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যে দলই আসুক— বিএনপি বা জামায়াত— সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো সরকারই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; ভিন্নমত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা পুনঃআলোচনা না হলে মব ভায়োলেন্স ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, দেশের মানুষ এখন গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করে না। এই বিশ্বাস ফেরাতে হলে গণমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার জায়গায় আসতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে একটি বোঝাপড়ার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।

বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা মাহফুজ আলম সময় কাটাচ্ছেন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন— কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা গেল না এবং ভবিষ্যতে কোন পথে এগোলে দেশের রাজনীতিতে সত্যিকারের পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here