বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে পান খাওয়া দীর্ঘদিনের একটি অভ্যাস। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে আনন্দঘন মুহূর্তে পান পরিবেশনকে অনেকে ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখে থাকেন। তবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।
পান খাওয়ার সঙ্গে যদি জর্দা, খৈনি বা সাদাপাতা যুক্ত হয়, তবে তা সরাসরি মুখগহ্বর ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দাঁত ও মাড়ি ক্ষয়, শ্বাসকষ্ট, পাকস্থলীর সমস্যা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে জীবননাশের ঝুঁকিও তৈরি করে। বিশেষ করে মুখে আলসার বা ক্ষতের মতো ছোট সমস্যা থেকেই ধীরে ধীরে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পান পাতায় কিছুটা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকলেও জর্দা ও তামাক মিশ্রিত হওয়ার কারণে এর ইতিবাচক দিক পুরোপুরি হারিয়ে যায়। পাশাপাশি নিয়মিত পান খাওয়ার কারণে দাঁতে দাগ পড়া, মাড়ি ফুলে যাওয়া এবং লিভারের ক্ষতিও হতে পারে। তরুণ সমাজে এই অভ্যাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্বাস্থ্য সচেতন মহল বলছে, ঐতিহ্যের নামে ক্ষতিকর অভ্যাস চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাই সামাজিকভাবে পান-জর্দা বর্জন ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো জরুরি।
ঐতিহ্যের সঙ্গে আপস না করে সুস্থ জীবন বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ঐতিহ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ‘বিষ’ আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।








