Home সারাদেশ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির প্রস্তুতিকালে ১১ জন আটক, রাজশাহীতে প্রশ্নফাঁস চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

22
0

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে উত্তর সরবরাহের প্রস্তুতিকালে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিভাইসসহ একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।

শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলার শহরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে অভিযানে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে মিনারুল ইসলাম নামের একজন রয়েছেন, যিনি নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি আসন্ন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেও জানা গেছে।

নাগেশ্বরীতে আটক অন্যরা হলেন— রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ গ্রামের আব্দুল লতিফ, খামার নকুলা গ্রামের শাহজামাল, কাজীপাড়া গ্রামের বাবু ইসলাম, বাগডাঙ্গা গ্রামের জান্নাতুন নাইম, ফুলবাড়ী উপজেলার বোয়ালভির গ্রামের আরিফুজ্জামান সিদ্দিকি, মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাঁশখালী গ্রামের হিমেল মাহমুদ, রাজৈর থানার টেকরহাট গ্রামের চামেলী আক্তার, আরাজিকোমরপুর গ্রামের বেলাল হোসেন এবং চরদামাল গ্রামের আনেয়ার হোসেন।

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে পরীক্ষা কেন্দ্রসংলগ্ন একটি বাসা থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে আরও পাঁচজনকে আটক করলে মোট ১১ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছে।

এদিকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেটের ছয় সদস্যকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর মালোপাড়া কমিউনিটি ব্যাংকের এটিএম বুথ এবং উপশহরের সৃষ্টি স্কুলের সামনে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন— নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মো. আল মামুন, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মাহবুব আলম, নওগাঁর আনজুয়ারা খাতুন, নওগাঁ সদর উপজেলার জুলফিকার আলী, আত্রাই উপজেলার মো. নয়ন আলী এবং মান্দা উপজেলার রায়হান কবির।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার গাজীউর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা স্ট্যাম্প, ব্যাংকের ফাঁকা চেক, প্রবেশপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here