বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই অভ্যাসবশত বা কাজের চাপে রাতে দেরিতে ঘুমাতে যান। কিন্তু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত দেরিতে ঘুমানো শরীর ও মনের জন্য ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ ক্ষতি। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে ধীরে ধীরে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে দেরিতে ঘুমালে শরীরের জৈবিক ঘড়ি (Biological Clock) ব্যাহত হয়। এর ফলে হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণে সমস্যা দেখা দেয়, যা সরাসরি প্রভাব ফেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর।
দেরিতে ঘুমানোর প্রধান ক্ষতিগুলো হলো—
-
মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা বৃদ্ধি: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় না, ফলে উদ্বেগ, বিরক্তি ও হতাশা বাড়ে।
-
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি: অনিয়মিত ঘুম হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
-
ডায়াবেটিস ও ওজন বৃদ্ধি: দেরিতে ঘুমালে মেটাবলিজম ব্যাহত হয়, বাড়ে অতিরিক্ত ওজনের আশঙ্কা।
-
স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া: ঘুমের অভাবে পড়াশোনা ও কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
-
ত্বক ও চোখের ক্ষতি: চোখের নিচে কালি, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়াসহ দ্রুত বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দেয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিয়মিত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর সবচেয়ে বেশি উপকার পায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দেরিতে ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করে সময়মতো ঘুমানোই পারে বহু রোগ থেকে দূরে রাখতে এবং একটি সুস্থ, কর্মক্ষম জীবন নিশ্চিত করতে।





