Home জাতীয়

২০২৫ সালে সড়কে ঝরেছে ৯ হাজারের বেশি প্রাণ, বেড়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

17
0

সদ্যসমাপ্ত বছর ২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ বছরে সারাদেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন, আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। আগের বছরের তুলনায় দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা—তিনটিই বেড়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬.৯৪ শতাংশ, নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৫.৭৯ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ১৪.৮৭ শতাংশ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৯৩টি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.০৪ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত এবং ২ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির মতে, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও অনেক ঘটনা গণমাধ্যমে না আসায় প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি উঠে আসছে না।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবছরের মতো এবারও এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সড়ক, রেল ও নৌ-পথ মিলিয়ে ২০২৫ সালে মোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৭৫৪ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছেন।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত১৪৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌ-পথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত, ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সংগঠনটির বিশ্লেষণে বলা হয়, দুর্ঘটনায় জড়িত ১ হাজার ২৮৮টি যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে ২৮.৪৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৪.৪৯ শতাংশ বাস, ২২.৬০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩.৫৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৬.৬৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ৮.৩৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা

দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণ করে সংগঠনটি জানায়, ৪৮.৮৪ শতাংশ দুর্ঘটনায় পথচারী গাড়িচাপায় নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৮.৬৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ০.৪৪ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে, ০.৬৮ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষে এবং ৫.৩৭ শতাংশ অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৮.২২ শতাংশ দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২৮.৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে ৪.২২ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৯০ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ০.৬৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ছোট যানবাহনের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি এবং সেগুলোর অবাধ চলাচলের কারণে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। তার মতে, জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে ২.৫৫ শতাংশ এবং আঞ্চলিক মহাসড়কে ৫.৪৭ শতাংশ

দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here