অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ছাড়া আর কে পুলিশে চাকরি পেয়েছে, আর কে এনএসআইতে চাকরি পেয়েছে—তা খোঁজ নিয়ে দেখলেই সত্যটা পরিষ্কার হবে। তিনি বলেন, সে সময় সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে, কিন্তু তখন মানুষ তা বুঝতে পারেনি। এখন অনেক ক্ষেত্রেই সেই দলের পক্ষেই কথা বলা হচ্ছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী নিতাই গৌর সেবাশ্রম পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যৎ তিনি দেখছেন না। মানুষের কাছে দলটির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিপুলসংখ্যক মানুষকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। এখন তাদের নেতাকর্মীরা দেশের বাইরে গিয়ে মিথ্যাচারে লিপ্ত রয়েছে।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সময় তিন হাজার পুলিশ নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ লাখ লাখ আন্দোলনকারীকে জঙ্গি হিসেবে প্রচার করছে। এসব অপপ্রচার চালিয়ে তারা বিশ্ববাসীকে বোঝাতে চাচ্ছে যে আন্দোলনকারীদের দমন করা প্রয়োজন।
প্রেস সচিব বলেন, ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ কোনো অনুতাপ প্রকাশ করেনি। এখন যদি তারা এসে বলে যে ভুল করেছে বা দুঃখ প্রকাশ করে, তাতেও আর সময় নেই। কারণ মনোনয়ন দাখিলের সময় ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সরকার নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের দিকে যাচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, এখানে ফ্যাসিবাদের কোনো প্রশ্ন নেই। বরং আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে মানুষের অধিকার হরণ করে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল।
তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি অস্ত্র হাতে তুলে নেয় এবং শিশু ও শিক্ষার্থীদের হত্যা করে, তাহলে বিশ্বের কোনো সভ্য রাষ্ট্রই তাদের গণতান্ত্রিক পরিসর দেয় না। একটি রাজনৈতিক দলের মৌলিক শর্ত হলো শান্তিপূর্ণ থাকা এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকা।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু না হলেও সারা দেশে ইতোমধ্যেই নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ এখন ভোটের দিনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না, কারণ তারা নিজেরাই নিজেদের অযোগ্য করে তুলেছে।
এ সময় নিতাই গৌর সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ বাবাজী মহারাজ চিন্ময় আনন্দ দাস চঞ্চল গোসাইয়ের সঙ্গে আলাপকালে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা নেজারত ডেপুটি কালেক্টর সহকারী কমিশনার আমিনুল ইসলাম, মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আশিকুর রহমান এবং নিতাই গৌর সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভৌমিক।










