Home রাজনীতি

বিড়িতে ‘সুখ টান’ দিয়েও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলে আল্লাহ মাফ করতে পারেন-ঝালকাঠিতে জামায়াত প্রার্থীর মন্তব্য

26
0
ঝালকাঠি-১-আসনে-জামায়াতে-ইসলামীর-মনোনীত-প্রার্থী-ড.-ফয়জুল-হক
ঝালকাঠি-১-আসনে-জামায়াতে-ইসলামীর-মনোনীত-প্রার্থী-ড.-ফয়জুল-হক

ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিড়ি খাওয়ার উদাহরণ টেনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গে তার বক্তব্য বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক নির্বাচনি উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। ওই বৈঠকের ভিডিও ‘Dr. Fayzul Huq The Youth Leader of Bangladesh’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে ড. ফয়জুল হককে বলতে শোনা যায়, সাধারণ মানুষ দৈনিক পাঁচ-দশটি বিড়ি খান। দোকানে গিয়ে বিড়ি অর্ডার দিয়ে ‘সুখ টান’ দিয়ে গল্পের ছলে দেশের অবস্থা ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রসঙ্গ তুললে সেটিও একটি দাওয়াত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি বলেন, “আমি তো গল্পের ছলে বলি, তাই বলার কারণে আপনাদের আনন্দ লাগতেছে।”

এক পর্যায়ে তিনি একটি উদাহরণ টেনে বলেন, ১২ বছর ভাত মুখে না তোলা এক ‘বিএনপিভক্ত’ নিজাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর প্রসঙ্গ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ জীবনে ইবাদতের সুযোগ না পেলেও যদি বিড়ির সুখ টানের মধ্য দিয়ে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেয়, তবে আল্লাহ চাইলে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন এবং তাকে ভালোও করে দিতে পারেন।

পুরুষ ভোটারদের উদ্দেশে পরামর্শ দিতে গিয়ে জামায়াত প্রার্থী বলেন, এখন থেকে পাঁচ টাকার চা খেয়ে ১৫ টাকার গল্প করতে। কথাবার্তার মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ‘জয়জয়কার’ ছড়িয়ে দিতে তিনি আহ্বান জানান। তার মতে, এতে আশপাশের আরও মানুষ একই কথা বলবে।

নারী ভোটারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের রাতে ঘুমানো যাবে না। নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাত ১২টা পর্যন্ত জেগে থেকে ভালো খাবার রান্না করে স্বামী ও আত্মীয়স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। ভোট গণনা শেষে বিজয় মিছিল করে ঘরে ফেরার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ একে ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনাকে বিতর্কিত বলে মন্তব্য করছেন। অনেকেই নির্বাচনী আচরণবিধির আলোকে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মত প্রকাশ করছেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময়ে এ ধরনের বক্তব্য ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং তা জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দেওয়াই স্বাভাবিক।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here