টানা ছয় ম্যাচে হারের পর টানা দুটি জয়ে প্লে-অফের স্বপ্ন দেখছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। তবে সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দিনের প্রথম ম্যাচে নোয়াখালীকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে তাদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয় চট্টগ্রাম।
মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ১২৯ রান। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতে বিপর্যয়ে পড়লেও ১৮ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
মামুলি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামের শুরুটা ভালো হয়নি। মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারায় দলটি। তবে পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ও হাসান নেওয়াজ চাপ সামলে ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। এরপর আসিফ আলীকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মেহেদী।
ফিফটির খুব কাছে গিয়ে অপরাজিত ৪৯ রানে ম্যাচ শেষ করেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক। আসিফ আলী খেলেন ঝড়ো ৩৬ রানের ইনিংস। এছাড়া মোহাম্মদ নাঈম শেখ করেন ১৮, হাসান নেওয়াজ ১১ ও মোহাম্মদ হারিস ৭ রান। মাহমুদুল হাসান জয় ও মাহফিজুল ইসলাম রানের খাতা খুলতে পারেননি।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালীর শুরুটা মন্দ ছিল না। ৩.১ ওভারে ৩৪ রান তুললেও সৌম্য সরকার (১৪) ফিরে গেলে ছন্দ হারায় দলটি। এরপর আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। পুরো ইনিংসে মাত্র তিনজন ব্যাটার বিশের ঘর পেরোন। জাকের আলী করেন সর্বোচ্চ ২৩ ও সাব্বির হোসেন যোগ করেন ২২ রান।
নোয়াখালীর ব্যাটিং ধসের নায়ক ছিলেন শরিফুল ইসলাম। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে হাসান ইসাখিলকে (২৫) ফেরানোর পর ১৬তম ওভারে পরপর দুই বলে হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান রানাকে আউট করেন তিনি। নিজের শেষ ওভারে সাব্বির হোসেন ও ইহসানউল্লাহকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট।
৩.৫ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করে ৫ উইকেট নিয়ে চলতি আসরের দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার গড়েন শরিফুল। এর আগে নোয়াখালীর বিপক্ষে সিলেটে ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন সিলেট টাইটান্সের নাসুম আহমেদ। এবারের বিপিএলে প্রথম পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব ছিল রংপুরের ফাহিম আশরাফের।
এই জয়ের ফলে চট্টগ্রাম রয়্যালসের প্লে-অফের সম্ভাবনা টিকে থাকলেও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপিএল যাত্রা শেষ হয়ে গেল।










