Home আরও বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

ঘুমের সময় বালিশের পাশে মোবাইল রাখছেন? জেনে নিন নীরব ঝুঁকি

20
0

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল। অনেকেই ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন বালিশের পাশে বা বালিশের নিচে রেখে ঘুমান। অ্যালার্ম দেওয়া, শেষ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা কিংবা জরুরি কলের আশায় এই অভ্যাস গড়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস নীরবে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।

চিকিৎসকদের মতে, মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। এতে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, যা ভালো ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে গভীর ঘুম না হওয়া, মাঝরাতে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং সকালে ক্লান্ত অনুভব করার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এছাড়া মোবাইল ফোন থেকে নির্গত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। যদিও তাৎক্ষণিক বড় ক্ষতির প্রমাণ না মিললেও মাথার খুব কাছাকাছি দীর্ঘ সময় মোবাইল রাখাকে বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ মনে করেন না। দীর্ঘমেয়াদে মাথাব্যথা, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা স্নায়বিক অস্বস্তির ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়।

ঘুমের সময় মোবাইল কাছে থাকলে মানসিক চাপও বেড়ে যায়। বারবার নোটিফিকেশন দেখার প্রবণতা মস্তিষ্ককে সব সময় সক্রিয় রাখে, যা বিশ্রামের বিপরীত। এতে উদ্বেগ বাড়ে এবং ঘুমের মান কমে যায়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা ঝুঁকি। অনেক ক্ষেত্রে চার্জ দেওয়া অবস্থায় বালিশের নিচে বা পাশে মোবাইল রাখলে অতিরিক্ত গরম হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। দেশে বিদেশে এমন ঘটনার উদাহরণও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন অন্তত কয়েক ফুট দূরে রাখা। নীরব বা ফ্লাইট মোড ব্যবহার করা এবং ঘুমানোর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা ভালো। এতে ঘুমের গুণগত মান বাড়বে এবং শরীর ও মন দুটোই থাকবে সুস্থ।

সচেতন অভ্যাসই পারে নীরব ঝুঁকি থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here