পাবনা কারাগারে বন্দি অবস্থায় আশির ও নব্বই দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রলয় চাকী (৬৬) মারা গেছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রলয় চাকীর মৃত্যুকে ঘিরে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও বিনা চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। নিহতের ছেলে দাবি করেন, তার বাবা আগে থেকেই হৃদরোগী ছিলেন। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পরও তাকে সিসিইউতে না রেখে সাধারণ প্রিজনার সেলে রাখা হয়। শারীরিকভাবে দুর্বল থাকা সত্ত্বেও তাকে দিয়ে নানা কাজ করানো হয়েছে, যা তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটায়। সঠিক চিকিৎসা না পাওয়াতেই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সকালে পাবনা শহরের পাথরতলা এলাকার নিজ বাসা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রলয় চাকীকে আটক করে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ওই মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। মামলা দায়েরের প্রায় এক বছর পর তাকে বাড়ি থেকে আটক করে আসামি দেখানো হয়।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওমর ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রলয় চাকী ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের তোলা অবহেলার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
প্রলয় চাকী ছিলেন দেশের একজন বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি ও তার ভাই মলয় চাকী বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’ ও ‘ইত্যাদি’সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
তার মৃত্যুতে পাবনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।










