চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দিন দিন জোরালো হচ্ছে এবং নতুন নতুন শহরে ছড়িয়ে পড়ছে। এই আন্দোলনের সূচনা মূলত ব্যবসায়ী ও দোকানিদের প্রতিবাদ থেকে—যাদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিল।
গত দুই দশকে বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অবস্থান ক্রমাগত দুর্বল হওয়ায় বিক্ষোভে নেমেছেন ঐতিহ্যবাহী বাজারের ব্যবসায়ীরা। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাজারে প্রতিবাদ ও ধর্মঘট ইরানের রাজনৈতিক অর্থনীতিতে গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে বাজার ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তী কয়েক দশক রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন। এর বিনিময়ে তারা আমদানি লাইসেন্স, বৈদেশিক মুদ্রা সুবিধা ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব পেতেন। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে তারা অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রভাবশালী ছিলেন।
তবে গত দুই দশকে পরিস্থিতি বদলায়। বিশেষ করে ২০০৫–২০১৩ মেয়াদে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সরকারের ‘বেসরকারিকরণ’ নীতিতে বহু রাষ্ট্রীয় সম্পদ আইআরজিসি ও বড় ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের হাতে গেলে অবকাঠামো, জ্বালানি, ব্যাংকিং ও আমদানি-বাণিজ্যে তাদের আধিপত্য বাড়ে। এতে বাজারের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকা সংকুচিত হয়।
এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি তৈরি করে, যা ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য টিকে থাকা কঠিন করে তোলে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিক্ষোভ দীর্ঘদিনের জমে থাকা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই আন্দোলন ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে রাষ্ট্র ও তার ঐতিহ্যবাহী সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যকার দূরত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে—যা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।










